ফিতরা আদায় হওয়ার জন্য ফিতরাদাতার নিয়ত জরুরি, ফিতরা গ্রহণকারীর জানা জরুরি নয়

0

‘ফিতরা আদায় হওয়ার জন্য ফিতরাদাতার নিয়ত জরুরি, ফিতরা গ্রহণকারীর জানা জরুরি নয়’

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব থাকে তার বাবার ওপর। যে শিশুর বাবা সম্পদশালী সে দরিদ্র গণ্য হয় না এবং তাকে ফিতরা দেওয়া যায় না।

দরিদ্র ব্যক্তির শিশু সন্তানকে ফিতরা দেওয়া যেতে পারে।  তবে শিশু যেহেতু টাকা-পয়সার রক্ষণাবেক্ষণ করতে অক্ষম, তাই ফিতরার টাকা এমন অবস্থায় শিশুর হাতে দেওয়া যাবে না যে, শিশু তা নিয়ে অনর্থক কাজে নষ্ট করবে বা হারিয়ে ফেলবে। ফিতরার টাকা শিশুর বাবা বা অভিভাবকের হাতে দিতে হবে অথবা এমন অবস্থায় শিশুর হাতে দিতে হবে যেন তা তার বাবা বা অভিভাবকের কাছে পৌঁছে, নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

ফিতরা আদায় হওয়ার জন্য ফিতরাদাতার নিয়ত জরুরি, ফিতরা গ্রহণকারীর জানা জরুরি নয় যে তাকে ফিতরা দেওয়া হচ্ছে। তাই ঈদ সালামি, বখশিশ, হাদিয়া, ঈদ উপহার, ইত্যাদি যে কোনো কিছু বলে ফিতরা গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ফিতরা পৌঁছে দিলে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে।

যেসব দরিদ্র ব্যক্তিরা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, তারা ফিতরাও গ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন এমন দরিদ্র ব্যক্তি, ভিক্ষুক ও ঋণগ্রস্তদের ফিতরা দেওয়া যাবে।

নিজের আত্মীয়দের মধ্যে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান ও নাতিপুতিদের ফিতরা দেওয়া যাবে না। যেহেতু তারা অভাবে পড়লে সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের সাধারণ সম্পদ থেকেই তাদের সাহায্য করা কর্তব্য, তাই তাদেরকে ফিতরা ও জাকাত দেওয়া যায় না।

এ ছাড়া ভাই-বোন, খালা, ফুফু, মামা, চাচাসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে।

আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী কেউ থাকলে তাকেই ফিতরা দেওয়া উত্তম। তাতে একইসাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও ফিতরা আদায় উভয় আমলের সওয়াবই পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, সাধারণ অভাবীদের সদকা করলে তা শুধু সদকা হয়, আর আত্মীয়দের দিলে তা সদকা হয়, আত্মীয়তার হক আদায়ও হয়। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.