সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে পারপাস সার্ভ করছে: হাসনাত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের হিপোক্রেসি জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন সরকার গণভোট নিয়ে দ্বিমুখী অবস্থানে ছিল। শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্যই নাকি তখন তারা, তখনকার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের হিপোক্রেসি জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন তিনি। এর মানে এটা এক ধরনের ভন্ডামি।”
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, “সরকারের এমন আচরণের কারণে শুধু সাধারণ জনগণ নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটাররাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।” বিএনপির ভোটারদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যারা সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল তারাও এখন হতাশ।”
হাসনাত বলেন, “সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে পারপাস সার্ভ করছে। অনেকেই সরকারি চাকরির এই ট্যাগটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির পারপাস সার্ভ করে এবং পলিসিতে তারা তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।”
তিনি বলেন, “আমি একটা জাতীয় জ্বালানি বিষয়ক কমিটিতে আছি। সেই জায়গায় দেখা গেছে আমলাদের মধ্যে অনেকেই যিনি এলএনজির সঙ্গে রিলেটেড, তিনি গভমেন্টকে পুশ করার চেষ্টা করেন— এলএনজি কীভাবে আমাদের দেশে এনার্জি সংকট নিরসনে সহায়তা করবে। কারণ এলএনজি কোম্পানিগুলো ইমপোর্ট করে, মানে হচ্ছে ইনভেস্ট করে। দেখা গেলো অবসরের পর সেই আমলা ওই এলএনজি কোম্পানির কোনও একটা পোস্টে চাকরি করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আবার এইচএফও নিয়ে কাজ করেন, তিনিও দেখা যায় সরকারকে পুশ করেন। পলিসিতে পুশ করেন। আমাদের হেভি ফুয়েল অয়েলগুলা যদি আমরা বেশি বেশি ইমপোর্ট করি, সেটা কিভাবে আমাদের এনার্জি ক্রাইসিসকে সলভ করবে। আমাদের দেখা যায়, ডিজেল নিয়ে যিনি কাজ করেন, তিনি সরকারকে পুশ করেন। গভমেন্ট ডিজেল বিভিন্ন জায়গা থেকে কেনে, স্পট মার্কেট থেকে কেনে। সবাই তাদের স্বার্থ ঠিক রেখে সরকারকে পুশ করেন।”
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে সরকারকে অনেক দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। এখানে আমাদের সংস্কারের ইনস্টিটিউশনাল, ইন্ডিপেনডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। আমাদের জুডিশিয়ারি ইন্ডিপেনডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। আমাদের আমলাতন্ত্রের জায়গায় একটা ম্যাসিভ রি-স্ট্রাকচার হওয়ার দরকার ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশন হওয়ার দরকার ছিল। এই সব জায়গা থেকে সরকার অনেক দূরে সরে গিয়েছে।”