বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হত্যা: দিশার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন পুলিশের

0

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জেরিকা তাসনীম দিশা। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তার যাতায়াত এবং মামলার আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিশাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রোববার (১ নভেম্বর) টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে এ আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হবে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুলে নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পেয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও গিয়েছিলেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর আসামি দীপের সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি এবং রেস্টুরেন্টে অবস্থানের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটন, অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে তাহসিফ হত্যা মামলায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। পুলিশের আবেদনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত স্থান নির্ধারণসহ কয়েকটি বিষয় জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে পরিবারের সদস্যরা ফোন করলে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তার ফোন থেকে মেসেঞ্জারে মায়ের কাছে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। এরপরও তিনি বাসায় ফেরেননি।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ২৯ অক্টোবর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে দীপকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.