নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনেও হৃদরোগের ঝুঁকি, বছরে যেসব পরীক্ষা করাবেন
হার্ট অ্যাটাক কখন, কাকে আঘাত করবে তা সবসময় বয়স দেখে বোঝা যায় না। একসময় হৃদরোগকে মূলত বয়স্কদের সমস্যা মনে করা হলেও এখন কম বয়সীদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মতো কারণ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারের সদস্যদের হৃদরোগের ইতিহাস থাকলেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
অনেক ক্ষেত্রেই হৃদরোগের ঝুঁকি দীর্ঘদিন নীরবে বাড়তে থাকে। তাই শুধু শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন পরীক্ষা কত ঘন ঘন প্রয়োজন, তা বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, অন্যান্য রোগ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে।
লিপিড প্রোফাইল
হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল, এইচডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মতো উপাদানের মাত্রা জানা যায়।
বিশেষ করে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদ্রোগের ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পরিবারের কারো অল্প বয়সে হৃদরোগ বা খুব বেশি কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে আরও আগে বা ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
ব্লাড প্রেশার মাপুন নিয়মিত
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। অথচ দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের জন্য স্ক্রিনিং করার পরামর্শও রয়েছে।
বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা মাপা যেতে পারে। তবে একবারের বেশি রিডিং দেখে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রক্তে শর্করা ও এইচবিএ১সি
ডায়াবেটিস হৃদরোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই বয়স, ওজন, পারিবারিক ইতিহাস বা অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।
এইচবিএ১সি পরীক্ষার মাধ্যমে গত কয়েক মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস থাকলে শুধু ওষুধ নয়, খাবার, শরীরচর্চা, ওজন এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমেও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ইসিজি জরুরি
ইসিজি বা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে। বুকব্যথা, বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক ইসিজি করতে বলতে পারেন।
এতে হার্টে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে কিংবা হার্টবিটের ছন্দপতন ঘটলে, তা সহজেই ধরা পড়বে। পাশাপাশি সময় থাকতে চিকিৎসা পাবেন এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো যাবে। এছাড়া কম ঝুঁকির উপসর্গহীন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিং ইসিজির বিরুদ্ধে সুপারিশ রয়েছে।
সময়মতো শনাক্তকরণেই স্তন ক্যানসারে বাড়ে সুস্থতার সম্ভাবনা
তবে হার্ট ভালো রাখতে শুধু পরীক্ষা করালেই হবে না। ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, হঠাৎ দুর্বল লাগা, বমিভাব বা ব্যথা হাত, চোয়াল, পিঠে ছড়িয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করানোর অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক