সিজারের দাগ কমাতে ঘরোয়া উপায় যা করতে পারেন
মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। তবে অনেক সময় মা ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য স্বাভাবিক প্রসবের বদলে সিজারিয়ান সেকশন (সি-সেকশন) করাতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর তলপেটে একটি দাগ থেকে যায়, যা নিয়ে অনেক নতুন মা মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। তবে মনে রাখা জরুরি, এই দাগ মাতৃত্বেরই একটি স্মারক।
তবুও যদি দাগ কিছুটা হালকা করতে চান, তাহলে ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু নিরাপদ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজারের ক্ষত পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে কোনো ধরনের তেল, জেল বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। ক্ষত সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়ার পরই পরিচর্যা শুরু করা নিরাপদ।
নারিকেল তেল ও ভিটামিন ই
নারিকেল তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে কোমল রাখে। এর সঙ্গে ভিটামিন ই ব্যবহার করলে ত্বকের পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। ১ টেবিল চামচ খাঁটি নারিকেল তেলের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিন। এরপর সিজারের দাগের ওপর আলতো হাতে ৫ থেকে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। প্রতিদিন রাতে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ত্বক নরম হতে পারে।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের যত্নে বেশ জনপ্রিয়। তাজা অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে দাগের জায়গায় লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ১ বা ২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।
হলুদ ও মধুর প্যাক
হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং মধুর ময়েশ্চারাইজিং গুণ ত্বকের যত্নে উপকারী হিসেবে পরিচিত। আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। দাগের ওপর লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
কোকো বাটার বা শিয়া বাটার
ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বককে কোমল রাখতে কোকো বাটার ও শিয়া বাটার বেশ কার্যকর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অল্প পরিমাণ কোকো বাটার বা শিয়া বাটার নিয়ে দিনে দুইবার দাগের ওপর আলতো করে ম্যাসাজ করুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আরও মসৃণ অনুভূত হতে পারে।
লেবুর রস ব্যবহারে সতর্কতা
লেবুর রসে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকায় অনেকেই দাগ হালকা করার জন্য এটি ব্যবহার করেন। তবে এটি সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। যদি ব্যবহার করতেই চান, তাহলে সমপরিমাণ গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে অল্প সময়ের জন্য লাগান। তবে ক্ষত পুরোপুরি না শুকালে বা ত্বক সংবেদনশীল হলে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
ভেতর থেকেও ত্বকের যত্ন নিন
শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যা করলেই হবে না। ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, ভিটামিন সি, প্রোটিন, জিঙ্ক ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন
সিজারের ক্ষত সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত কোনো ধরনের তেল, ক্রিম বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। ম্যাসাজ করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওযা যাবে না। যদি দাগের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব, পুঁজ, ফোলা বা অস্বাভাবিক চুলকানি দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায় বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সিজারের দাগ রাতারাতি মিলিয়ে যায় না। এটি হালকা হতে সময় লাগে, তাই ধৈর্য ধরতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাগ অনেকটাই ফিকে হয়ে আসতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টামিস