প্রচণ্ড গরমে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন নাকি সাইনাস সমস্যা?
চলছে গরমের মৌসুম। আর গরমের দিনে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সাইনাসের বাড়বাড়ন্ত এই মৌসুমে খুবই সাধারণ বিষয়। এ সময় মাথাব্যথা নিয়ে অনেকেই ভুগে থাকেন। গরম ও রোদ একত্রে মাইগ্রেনের উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে। কখনো রোদ উঠছে, আবার কখনো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বাড়ে এ সমস্যা।
আর রোদে বেরোলে তীব্র মাথাব্যথায় ভোগেন কেউ কেউ, আবার বৃষ্টিতে ভিজলেও একই হাল হয় কারও কারও। কখনো মাথার ডান দিকে, কখনো বাঁ দিকে, কখনো মাঝখানে, আবার কখনো বাঁ দিক থেকে শুরু করে একেবারে ডান দিক অবধি ব্যথার স্রোত বয়ে যায়। তবে এই মাথাব্যথা সাইনাসের কারণে হচ্ছে, না কি মাইগ্রেনের জন্য, সেই তফাত বুঝতে পারেন না অনেকেই। কোনটি থেকে আপনার সমস্যা হচ্ছে, তা বুঝবেন কীভাবে?
কারণ গরমে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। গরমে মাথাব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ডিহাইড্রেশন থেকেও মাথাব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ মৌসুমে সাইনাস আর মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে রোগীকে বাড়তি সতর্ক থাকতেই হবে— এমনটিই মত ভারতের চিকিৎসক শুভম সাহার।
তিনি বলেন, ‘সাইনাস হলে মাথা যন্ত্রণার পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকে জ্বালাভাব আর নাক থেকে রক্তপাত— এ উপসর্গগুলো থাকবে। এরই সঙ্গে দাঁত, চোখ ও গালের উপরিভাগের হাড়ে ব্যথা হতে পারে। একই সঙ্গে সাইনাসের সমস্যা থাকলে অ্যালার্জির ধাতও থাকবে। এ ক্ষেত্রে ত্বকের সংক্রমণ ও চুলকানি হতে পারে। এ ছাড়া জ্বরও হতে পারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে।’
শুভম বলেন, ‘মাথার একদিকেই ব্যথা হয় বেশি। সারাক্ষণ দপদপ করতে থাকে। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা অবধি ব্যথা থাকতে পারে। কেবল মাথায় নয়, ঘাড়ে ও মাথার পেছন দিকেও যন্ত্রণা হয়। সেই সঙ্গে বমি ভাব থাকে। চোখ খুলে রাখা যায় না বেশিক্ষণ। চোখে আলো পড়লেও কষ্ট হয়। কারও চা-কফি থেকে ব্যথা বাড়ে, কারও সিগারেট বা মদপান করলে যন্ত্রণা বেড়ে যায়।’
সুতরাং মাথাব্যথা হলে তা মাইগ্রেন না সাইনাস, তা বোঝার জন্য ব্যথা ও উপসর্গের ধরন খেয়াল করা জরুরি। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশে দপদপ করে। অন্যদিকে সাইনাসের ব্যথা কপাল ও চোখের চারপাশে ভারি চাপের মতো অনুভূত হয়। জটিল কোনো সমস্যায় পড়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।