ইরানে একাই হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলা সত্ত্বেও ইরান বিরুদ্ধে ইসরায়েল একতরফা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এজেন্সির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধাবর নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আজ ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদিকে ঘোষণা করতে শুনেছি যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র লাভ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আমি সংকল্পবদ্ধ।’
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ইসরায়েলের সর্বশ্রেষ্ঠ মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘যা কিছু প্রয়োজন তা করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ‘উন্নত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে এবং উভয় পক্ষ খসড়া প্রস্তাব বিনিময় করেছে। মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে আল-আনসারি জানান, একটি কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে সকল পক্ষের সাথেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ শুরু করে, যাতে ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জবাবে ইরান মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বা ঘাঁটি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়।
জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী মধ্যস্থতাকারী দল হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে কাতারও যুক্ত হয়, যা ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দিকে নিয়ে যায় এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত দ্বিমতের কারণে আলোচনা থমকে দাঁড়ায়।
এরপর, গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরানও জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা দাবি করে।