সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছন হাইকোর্ট।
পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা খায়রুল হক পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর উচ্চ আদালতে পৃথকভাবে জামিন আবেদন করেন।
চলতি বছর ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর আব্দুল কাইয়ূম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় কাজলা পুলিশ বক্সের সামনে গুলিবিদ্ধ হন কিশোর আব্দুল কাইয়ূম আহাদ। পরে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসান তার দুই পায়ে ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন এ বছরের ৬ জুলাই ৪৬৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি ও অজ্ঞাতনামা ১ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালে খায়রুল হক শপথ নেন তিনি। পরের বছর ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে যান। আপিল বিভাগে থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন খায়রুল হক। হাইকোর্ট বিভাগে থাকাকালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার রায় ও সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় দিয়েছিলেন খায়রুল হক।
২০১৩ সালে তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা একই পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক এই বিচারপতিকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না।