পাকিস্তানি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশ থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে দেশটির সরকার বলেছে, পাকিস্তান থেকে ট্রানজিটে থাকা সব পণ্যের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য।
শুক্রবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার যেকোনো ব্যতিক্রমের জন্য ভারত সরকারের আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে সব ধরনের পণ্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র বাণিজ্য পথ ওয়াঘা-আটারি ক্রসিং ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো পাকিস্তানে যেসব আর্থিক উৎস সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করে, তা বন্ধ করা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয় মূলত ওষুধজাত পণ্য, ফল ও তেলবীজ। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে এটি কমেছে, ভারত পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ২০০% শুল্ক আরোপ করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা মোট আমদানির ০.০০০১% এরও কম ছিল।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের বৈশরান তৃণভূমিতে এক নেপালি পর্যটক ও স্থানীয় এক টাট্টু গাইড অপারেটরসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে বন্দুকধারীরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৬০ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত। এছাড়া পাকিস্তানি নাগরিকদের সব ভিসা বাতিল ও ভারতে বসবাসকারীদের দেশ ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে মেডিক্যাল ভিসাও ছিল। জবাবে সিমলা চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দেয় পাকিস্তান। ১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এ চুক্তি করা হয়েছিল।