গাজায় শরণার্থী শিবির-আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৮

0

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে নির্বিচার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এরইমধ্যে ভূখণ্ডটির একটি শরণার্থী শিবির ও আবাসিক বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পৃথক এই হামলায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন।

এর মধ্যে মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন। অন্যদিকে রাফাহতে আবাসিক বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। উভয় হামলাতেই নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিশু। এছাড়া এই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ওয়াফা।

আল জাজিরা বলছে, মাগাজি শরণার্থী শিবিরটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ শুরু করার পরে ভূখণ্ডটির উত্তরে হাজার হাজার পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার পরে এই শিবির আরও ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আল জাজিরার হানি মাহমুদ রাফাহ থেকে জানিয়েছেন, মাগাজি শরণার্থী শিবিরে মানুষের কাজ ও ব্যস্ততার সময়ে ইসরায়েল এই হামলাটি চালায়। তিনি বলেন, হামলার সময় সেখানকার একটি খেলার মাঠেও আক্রমণের ঘটনা ঘটে যেখানে প্রায়শই বাস্তুচ্যুত শিশুরা চলাচল করে।

এছাড়া ইসরায়েলি এই হামলায় ‘কয়েকজন’ আহত মানুষকে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও মাহমুদ জানিয়েছেন।

এদিকে গাজার রাফাহ শহরের একটি বাড়িতে পৃথক ইসরায়েলি হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চার শিশুসহ ওই সাতজন নিহত হন।

এর আগে গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছিল, ‘অনেক’ লোক হামলায় নিহত ও আহত হয়েছে। তারা আহত লোকদের এবং নিহতদের মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে তুলতে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৪৩ জন নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৬ হাজার ৫৭৫ জন।

এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com