সড়ক আইনের প্রতিবাদে ১০ জেলায় বাস বন্ধ

0

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ‘বিরোধিতায়’ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস চালানো বন্ধ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ বাস চালাচ্ছেন না।

জেলাগুলো হচ্ছে-যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা বলে জানিয়েছেন তিনি।

শ্রমিকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না জানিয়ে মোর্তজা বলেন, অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার জন্য নতুন সড়ক আইনে তাদেরকে ঘাতক বলা হচ্ছে। তাদের জন্য এমন আইন করা হয়েছে যা সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

“নতুন আইনের অনেক ধারার ব্যাপারে শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে। সরকার সমাধানের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় শ্রমিকরা রোববার দুপুর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।”  

গত বছর ঢাকায় বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে আগের আইন কঠোর করে এই আইন করা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

২০১৮ সালে পাশ হওয়া এ আইন গত পহেলা নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের জারি করা হয়। তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।  অন্য দিকে আইনটি সম্পর্কে সবার স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণ দেখিয়ে আরো দুই সপ্তাহ পর তা কার্যকর করে সরকার।

এরপর থেকে বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ এই কর্মবিরতি শুরু করে।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, ১৪ নভেম্বর যশোরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে সড়ক আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবি করা হয়।

“এরপর রোববার সকাল থেকে যশোর ১৮ রুটের শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু করেছেন।”

তবে যশোর-বেনাপোল ও যশোর-সাতক্ষীরার অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও প্রাইভেট, মাইক্রো, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নসিমন-করিমন জাতীয় ছোট যানবাহন এবং অযান্ত্রিক গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে ‘ঈগল পরিবহনের’ বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান বলেন, ঢাকা-কলকাতা ও বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য স্থানে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল করছে।

“ট্রেন চলছে তবে অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না।”

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্রী আফসোনা আফরিন পাঁপড়ি কলেজে যাওয়ার জন্য সোমবার সকালে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন।

পাঁপড়ি বলেন, যশোর যাওয়ার জন্য বেনাপোলে এসে শুনি বাস চলছে না। অসুস্থ তারপরেও জরুরি কাজে কলেজে যেতে হবে কিন্তু এখন আর যেতে পারছি না।

এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি বিমল সাহা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করায় সোমবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া,  ঝিনাইদহ -মাগুরা, ঝিনাইদহ- চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ হাটফাজিলপুর ও ঝিনাইদহ–হরিণাকুন্ডু রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ভাড়ায় চালিত মাইক্রো বাস ও কার চালকরাও কর্মবিরতি পালন করছে বলেও জানান তিনি।

বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে চলাচল করছে। স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহণ চলাচল করতে দেখা গেছে।

গাড়াগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে কামাল হোসেন নামে এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে খুলনা যাওয়ার জন্য আসেন। বাস বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তিনি।

ঝিনাইদহ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খোকন জানান, যান চলাচল ঠেকাতে সড়কে কোনো ব্যারিকেড দেননি তারা।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হামানুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের অঘোষিত কর্ম বিরতিতে লোকাল রুটগুলোতে বাস মিনিবাস চলছে না। তবে দূর পাল্লার রুটে যান বাহন চলাচল করছে।

অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি মানিক আকবর জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল ১০টার পর থেকে ঢাকা-চুয়াডাঙ্গা রুটের বাসও চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতা তাকে জানিয়েছেন।

নতুন চালু  হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে এই অনানুষ্ঠানিক কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা মোর্তজা হোসেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com