কিশোর বয়সে হজ করলে ফরজ হজ আদায় হবে?

0

প্রশ্ন: আমি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হজ করার নিয়ত করেছি। আমার দুই সন্তানের মধ্যে একজন বড় হয়ে গেছে। আরেকজন কিশোর বয়সী, সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে এবং আমাদের দেখাদেখি সে হজের সব বিধান পালন করবেন। প্রশ্ন হলো, এই বয়সে হজ করলে কি তার ফরজ হজ আদায় হবে নাকি বড় হওয়ার পর পুনরায় হজ করতে হবে?

উত্তর: আপনি কোন বয়সের সন্তানকে কিশোরবয়সী বলছেন তা স্পষ্ট নয়। আপনার সন্তান যদি ইসলামের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার হজ ফরজ হজ হিসেবে আদায় হবে। আর আপনার সন্তান যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে, তাহলে তার হজ নফল গণ্য হবে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হজ করার সামর্থ্য অর্জন করলে তাকে আবার নিজের ফরজ হজ আদায় করতে হবে।

ইসলামে যে বয়সে ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক গণ্য হয়
ছেলে ও মেয়ে শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কিছু আলামত শরিয়তে বলে দেওয়া হয়েছে। এগুলো না পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট বয়সসীমাও রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক গণ্য করা হয়।

ছেলে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আলামত ৩টি:
১. স্বপ্নদোষ হওয়া।
২. অন্য কোনোভাবে বীর্যপাত হওয়া
৩. দাড়ি-মোচ ওঠা

মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আলামত ৩টি:
১. স্বপ্নদোষ হওয়া।
২. হায়েজ বা মসিকের রক্ত আসা।
৩. গর্ভধারণ করা।

কোনো ছেলে মেয়ের মধ্যে এ সব আলামতের কোনোটি প্রকাশ না পেলে হিজরি বর্ষ হিসাবে পনেরো বছর পূর্ণ হলে তাদেরকে শরিয়তে প্রাপ্তবয়স্ক গণ্য করা হয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি; তখন আমি ১৪ বছরের বালক ছিলাম। পরে খন্দকের যুদ্ধে যখন আমি ১৫ বছর বয়স্ক ছিলাম তখন তিনি আমাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন। নাফে (রহ.) বলেন, আমি খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে গিয়ে এ হাদিস শোনালে তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা। তারপর তিনি তাঁর গভর্নরদের লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, যাদের বয়স ১৫ হয়েছে, তাদের যেন সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয় এবং তাদের জন্য যেন ভাতা নির্দিষ্ট করা হয়। (সহিহ বুখারি: ২৬৬৪, সহিহ মুসলিম: ১৮৬৮)

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.