ঢামেকে করোনা রোগীদের চাহিদার তুলনায় আইসিইউ কম

0

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা নিতে আসা করোনা রোগীদের চাহিদার তুলনায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট  (আইসিইউ) বেডের সংখ্যা অনেক কম । ফলে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বেশীর ভাগ রোগী। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে এই ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, এরমধ্যে ৩০ থেকে ৪৫ জন রোগীর ব্যবস্থাপত্রে আইসিইউ’র প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন চিকিৎসকরা। অথচ আইসিইউ বেড আছে মাত্র ১৪টি।

ঢামেকে শিশুসহ মোট তিনটি করোনা ইউনিট রয়েছে। রোববার পর্যন্ত এসব ইউনিটে ৫৬৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই করোনাভাইরাস পজিটিভ রোগী।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটকে করোনা সার্জারি ইউনিট করা হয়েছে । অন্য রোগীদের জন্য করোনা ইউনিট করা হয়েছে নতুন ভবনে।

বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলার করোনা ইউনিটের আইসিইউর ভেন্টিলেটর সব খুলে নতুন ভবনে লাগিয়ে করোনা রোগীদের জন্য মোট ১৪টি আইসিইউ বেড করা হয়। তারপর থেকে সরাসরি করোনা রোগীদের জন্য বার্ন ইউনিটে করোনা ইউনিটে কোনো আইসিইউর সাপোর্ট নেই। তবে বার্ন ইউনিটে নারী ও পুরুষ জন্য আলাদাভাবে ২৪টি হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) রয়েছে।

এছাড়া, শিশু এইচডিইউ ও আইসিইউর ওয়ার্ডকে এইচডিইউ করা হয়েছে। প্রতিদিন চিকিৎসকরা ৩০ থেকে ৪৫ জন রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে বলে ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন। কিন্তু ১৪টি বেডের আইসিইউ সব সময় রোগী দিয়ে পূর্ণ থাকে। তাই আইসিইউ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর ফাইলে একটি সিল দেন, ‘দুঃখিত বিছানা খালি নেই?’

দিনে পর দিন ঘুরেও যদি একটি আইসিইউ পাওয়া রোগীদের কাছে সোনার হরিণের মতো। অনেক রোগী আইসিইউ না পেয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে থাকছেন। কেউ অক্সিজেনের মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছেন, কেউ মারা যাচ্ছেন। এভাবেই চলছে করোনা ইউনিটের কার্যক্রম।

গত ৪ জুন কামরাঙ্গীরচর খলিফা ঘাট এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসেম (৬২) করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে নতুন ভবনের ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকরা রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লেখেন জরুরি ভিত্তিতে তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। পরে নিয়ম অনুযায়ী ফাইল নিয়ে আইসিইউতে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসরা ফাইলে একটি সিল দেন ‘দুঃখিত বেড খালি নাই’। তবে সিরিয়াল খাতায় রোগীর নাম লেখান তার ছেলে। তার পর থেকে অপেক্ষার পালা, অবশেষে আইসিইউ না পেয়ে রোববার দুপুরে তিনি মারা যান। এই সব অভিযোগ করেন ছেলে আরিফ হোসেন। এই ভাবেই আইসিইউ সেবা না পেয়ে রোগীরা মারা যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, প্রতিদিনই ৩০ থেকে ৪৫ জন রোগীর আইসিইউ লাগবে বলে ব্যবস্থাপত্রে লিখেন চিকিৎসকরা। ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের সেন্ট্রাল অক্সিজেনে কাজ না হলেই চিকিৎসকরা আইসিইউর কথা লেখেন। রোগীর স্বজনরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে আইসিইউ বিভাগে গিয়ে দেখেন ১৪টি বেডের একটিও খালি নেই। তবুও নিয়ম অনুযায়ী রোগীর নাম লিপিবদ্ধ করে আসেন।

তিনি আরো জানান, এমনও দেখা যায় আইসিইউতে থাকা রোগী স্থিতিশীল হতে এক-দেড় মাস লেগে যায়। আবার দেখা গেছে কেউ কেউ ১-২ ঘণ্টা পর মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালে রোগীদের জন্য ১৪টি আইসিইউ রয়েছে। আসন কম থাকায়, অনেক রোগী আইসিইউ দরকার হলেও ওয়ার্ডে অবস্থান করতে বাধ্য হন। এছাড়া, হাসপাতালের পুরনো ভবনে ৩৫টি আইসিইউ বেড আছে। তবে সেগুলো সাধারণ রোগীদের জন্য। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরো আইসিইউ দরকার, সরকার যদি দেন তা হলে আমরা ব্যবস্থা করতে পারবো। রোগীদের জন্য আইসিইউ অনেক বড় একটি বিষয়। এটি এমন নয় যে কোনো কিছু কিনে এনে লাগিয়ে দিলাম।’

তবে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউর বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com