যে কারণে বাড়ছে ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের চাহিদা

0

বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারের বাজারও বেড়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে বড় একটি পরিমাণ সফটওয়্যার পাওয়া যায় বিনামূল্যেই। এসব সফটওয়্যারকে বলা হয়ে থাকে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার। মূলত সফটওয়্যারের সোর্স কোড সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি নিয়েই ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে থাকে। আর এসব ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের আন্দোলনকে বেগবান করতেই কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে’। এবারেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে’।

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বা মুক্ত সফটওয়্যারগুলো এখন বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য নানান কাজের মুক্ত সফটওয়্যারগুলো এখন ব্যবহার করছে সকলেই। মুক্ত এসব সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এসব সফটওয়্যারের সোর্স কোড উন্মুক্ত সকলের জন্য। এর ফলে যে কেউ তার নিজের মতো করেই এই সফটওয়্যারগুলো কাস্টমাইজ করে নিতে পারে।

পার্সোনাল কম্পিউটিংয়ের শুরুর দিক থেকেই অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সফটওয়্যারগুলোকে বদ্ধ করে রাখতে শুরু করে নিজেদের গণ্ডির মধ্যে। তবে এর আগে অবশ্য আইবিএম তাদের কিছু কিছু সফটওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেমকে উন্মুক্ত করে দেয় সকলের জন্য। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তাদের সফটওয়্যার দিয়ে রমরমা ব্যবসা শুরু করে, তখন প্রযুক্তিকে সকলের নিকট সহজলভ্য করে তুলতেই গড়ে ওঠে ফ্রি সফটওয়্যারের আন্দোলন। আজ যাকে আমরা ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলছি, সেগুলো শুরুতে ফ্রি সফটওয়্যার হিসেবেই পরিচিত ছিল। তবে এই ‘ফ্রি’ শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছিল ‘ফ্রিডম’ শব্দ থেকে। এসব সকলেরই এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করার স্বাধীনতা থাকার কারণেই এই ‘ফ্রি সফটওয়্যার’ কথাটির প্রচলন হয়। তবে অনেকেই ‘ফ্রি’ শব্দটিকে বিনামূল্যের ‘ফ্রি’ হিসেবে ভাবতে থাকায় পরে একে ডাকা হয় ‘ওপেন সোর্স’ সফটওয়্যার হিসেবে।

২০০৪ সালের ২৮ আগস্ট বিশ্বব্যাপী প্রথম পালন করা হয় সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে। সেবারে ১২ টি দল অংশগ্রহণ করে এই আয়োজনে। উন্মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি এবং প্রচারের অন্যতম বৃহত্ প্রতিষ্ঠান ক্যানোনিক্যাল লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায়ই মূলত সেই আয়োজন সম্পন্ন হয়। তবে এই আয়োজনের পর থেকেই দৃশ্য দ্রুত বদলে যেতে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে দল যোগ দিতে থাকে এই উদ্যোগের সাথে। পরের বছর ২০০৫ সালে ১০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় এই দিনটি। আর ২০০৬ সাল থেকেই সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবার আয়োজিত হয়ে আসছে এই সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে।

মুক্ত সফটওয়্যারের আন্দোলনকে বেগবান করতে একটা সময় গঠন করা হয় ‘সফটওয়্যার ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল’। সম্পূর্ণ অলাভজনক এই সংস্থাটিই মূলত সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে’র মূল উদ্যোক্তা এবং আয়োজক হিসেবে বিশ্বব্যাপী এর সাথে একাত্ম সকলকে একত্রিত করে তোলে। সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে’র আয়োজনের জন্য স্পন্সর জোগাড় করা, তহবিল গঠনসহ যাবতীয় কাজের সমন্বয়ও করে থাকে এরাই।

সফটওয়্যার ব্যবহারের যতগুলো ক্ষেত্র রয়েছে, তার সবগুলোতেই মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধাগুলো সকলের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে পালন করা হয়। এই দিবসটির মূল কথাই হচ্ছে ডিজিটাল বিশ্বে সব মানুষকে স্বাধীনভাবে সংযুক্ত করে সকলে মিলে পারস্পারিক সহযোগিতায় স্বচ্ছ এবং টেকসই সফটওয়্যার প্রযুক্তি গড়ে তোলা। মূলত ছয়টি লক্ষ্য রয়েছে এই দিবস উদযাপনের। এগুলো হচ্ছে- সফটওয়্যারের স্বাধীনতা উদযাপন করা এবং এর পেছনের মানুষগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া; সফটওয়্যারের স্বাধীনতার বিষয়টি সকলের বোঝাপড়ার মধ্যে নিয়ে আসা এবং মুক্ত সফটওয়্যার ও মুক্ত মানকে গ্রহণ করতে উত্সাহিত করা; পারস্পারিক সহযোগিতায় গড়ে তোলা প্রযুক্তিকে সকলের নিকট সমানভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করা; তথ্য বিশ্বে দায়িত্বশীলতা এবং অধিকারকে সকলের নিকট সহজলভ্য করা; মুক্ত সফটওয়্যার বিষয়ে সহমত সকলকে একত্রিত করা এবং একটি একীভূত সংগঠন হিসেবে দায়িত্বশীল হওয়া।

২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) দেশে এই দিবস পালন করে আসছে। এই সংগঠনের সহযোগী সারাদেশের বেশ কয়েকটি ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক নিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে উদযাপন করেছে দিবসটি। র্যালি, মুক্ত আড্ডা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বাংলা উইকিপিডিয়া সহায়িকা বিতরণসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালন করা হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com