তারেক রহমানের ভাবনায় শিশুর আলোকিত আগামী
একটি জাতি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা ভাবছে, তা বোঝা যায় সে তার শিশুদের কীভাবে গড়ে তুলছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কতটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আজ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, প্রতিটি প্রান্তরে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের বুকে টেনে নেন, পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, তোমাদেরই একদিন এই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে, তোমরাই এই দেশের আসল ভবিষ্যৎ, তখন কোটি পিতা-মাতার চোখ আনন্দাশ্রুতে ভিজে ওঠে।
শিশুদের প্রতি তার এই গভীর ভালোবাসা, পরম নির্ভরতা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আজ এক নতুন, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। তার এই চমৎকার দর্শন একটি প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রদর্শন; যা হয়ে উঠবে ঐতিহাসিক রূপকল্প।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার এই মহান দর্শনের বীজ এ দেশের মাটিতে বপন করেছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনিই প্রথম শিশুদের সৃজনশীলতা, মেধা ও মনন প্রকাশের জন্য দেশজুড়ে শুরু করেছিলেন কালজয়ী ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা।
গ্রামবাংলার অজপাড়াগাঁ থেকে প্রতিভা অন্বেষণের সেই উদ্যোগ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘরে আলোড়ন তুলেছিল। পরবর্তীতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং কন্যাশিশুদের উপবৃত্তির মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিল।
আজ তাদেরই রক্ত ও ব্যক্তিত্বের উত্তরসূরি এবং যোগ্য পথপ্রদর্শক হিসেবে গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপে ফিরিয়ে এনেছেন। আজ মাঠপর্যায়ে পুনরুজ্জীবিত হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এবং দেশব্যাপী গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের মাঠে যখন প্রধানমন্ত্রীকে প্রোটোকল ভেঙে শিশুদের ভিড়ের মধ্যে হাসিমুখে মিশে যেতে দেখা যায়, তখন মনে হয় এ যেন শহীদ জিয়ার সেই ‘নতুন কুঁড়ি’রই একবিংশ শতাব্দীর এক প্রাণবন্ত রূপান্তর।
জনতার নেতা তারেক রহমানের এই শিশুকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা শুধুই কোনো আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক পরম আবেগ ও পরম শ্রদ্ধার মেলবন্ধন। কিছুদিন আগে দেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল পুরো জাতি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্র জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে বসে অবোধ শিশুদের কৌতূহলী চোখে সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর নিজের পাশে বসিয়ে পরম স্নেহে তাদের দুপুরের খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য দেশের ইতিহাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শিশুদের বিদায়ের সময় আবারও সেই কথা, তোমরাই কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ। যে শিশুরা কখনো ভাবেনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থানটি তারা এত কাছ থেকে দেখবে, প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে তাদের প্লেটে খাবার তুলে দেবেন, সেই শিশুদের চোখের আত্মবিশ্বাসের দ্যুতি আজ পুরো জাতিকে আশান্বিত করে। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বের হয়ে এসে শিশুদের সঙ্গে এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে, তিনি শিশুদের মাঝে নিজের শৈশব এবং আগামীর বাংলাদেশকে খুঁজে বেড়ান।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের শিশুদের নিয়ে এমন দারুণ ভাবনার গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়, যখন শিশুদের মানসিক ও মেধার বিকাশের জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলো দেখি। আজকের শিশু যেন শুধু মুখস্থ বিদ্যায় আটকে না থাকে, বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিতে পারে; সে জন্য বর্তমান সরকার চালু করেছে জাতীয় পর্যায়ে সায়েন্স ফেয়ার, স্টার্ট-আপ ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রোগ্রামের মতো সুবিশাল আয়োজন। শিশুদের ভেতরের খুদে বিজ্ঞানী, খুদে উদ্যোক্তা আর আগামী দিনের নেতৃত্বকে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে ডানা মেলার আকাশ করে দিয়েছেন।
তারেক রহমান শিশুদের নিয়ে এতটাই উচ্ছ্বসিত যে, এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা থেকে শুরু করে কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ—সবই এই শিক্ষার্থীদের দিয়েই করানো হয়েছে, যেন তারা উপযুক্ত হয়ে ওঠে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গ্যালারি থেকে প্রশ্ন করারও সুযোগ রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে আপামর জনতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের ডেকে মঞ্চে তুলে নেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এই প্রতিটি কর্মকাণ্ড বলে দেয় যে, জনাব তারেক রহমানের শিশুদের নিয়ে কতটা দূরদর্শী চিন্তা রয়েছে।
আমরা দেখেছি, সেখানে তিনি লিখিত বক্তব্য না দিয়ে বরং শিশুদের সঙ্গে গল্প করার ছলে বক্তব্য দিয়েছেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স আর প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা আধুনিক ও সময়োপযোগী এসব প্রজেক্ট তৈরির সঙ্গে শিশুদের শৈশবেই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার যে দূরদর্শী রূপরেখা তারেক রহমান প্রণয়ন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিশুর ছোট্ট একটি আইডিয়া বা স্বপ্নও একদিন বদলে দিতে পারে পুরো রাষ্ট্রকে।
শুধু তা-ই নয়, তিনি যখন বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়েছেন, আমরা দেখেছি তার বাস থামিয়ে শিশুদের দেওয়া ফুল গ্রহণ করছেন। শিশুদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর তো একটিই কারণ হতে পারে—বর্তমানের এই শিশুদের তিনি আগামীর বাংলাদেশ হিসেবে রূপান্তর করতে চান। আর এটিই তো একজন সফল, দায়িত্বশীল, দূরদর্শী ও চিন্তাশীল প্রধানমন্ত্রীর কাজ। এ জন্যই তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, শিশুদের আগামীর ভবিষ্যৎ হতে উৎসাহিত করছেন।
ক্রীড়াঙ্গনেও শিশুদের উপস্থিতি আজ অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আয়োজিত বিশেষ টুর্নামেন্টগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও উৎসাহ তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করছে। খেলার মাঠে শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা, পায়ে দৌড়ানো কিংবা বিজয়ী খুদে খেলোয়াড়দের বুকে জড়িয়ে ধরে ট্রফি তুলে দেওয়ার মাঝে ফুটে ওঠে এক অন্যরকম পিতৃসুলভ অভিভাবকত্ব।
শিশুদের প্রতি এই মমত্ববোধ, সম্মান ও প্রবল বিশ্বাস দারুণভাবে বার্তা দেয় যে, তিনি আগামী প্রজন্মের এক দূরদর্শী পথপ্রদর্শক ও কাণ্ডারি। শহীদ জিয়ার দেশপ্রেমের আদর্শ বুকে ধারণ করে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাতৃসুলভ আশীর্বাদ ও স্নেহকে পাথেয় করে, দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত ধরে আমাদের ‘নতুন কুঁড়ি’রা আজ ডানা মেলছে এক আলোকময় সোনালি ভবিষ্যতের দিকে। এই শিশুদের হাত ধরেই একদিন বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। প্রতিটি শিশুর চোখে ডানা মেলবে একটি বৈষম্যহীন, সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন।
মাহবুব নাহিদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক