ব্রাজিল একাদশ থেকে ‘বড় তারকা’দের বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত কোচের

0

ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ এখনও প্রকাশ করেননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, একাদশে পরিবর্তন আসবে। তার ইঙ্গিত, এই বাদ পড়াদের তালিকায় থাকবেন বড় তারকারাও।

গ্রুপ সি’র প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর ব্রাজিল এবার ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে হাইতির। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে হালকা সুরে আনচেলত্তি বলেন, তিনি চার বা পাঁচটা পরিবর্তন আনবেন। পরে অবশ্য নিজেই বলেন, এটা একটা রসিকতা ছিল। পরিবর্তন তার চেয়ে কম হবে।

আনচেলত্তি বলেন, ‘কিছু একটা পরিবর্তন হবে, হ্যাঁ। তবে আমি বলতে চাই না, এটা তোমাদের জন্য ভালো একটা টপিক। আমি আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করি।’

জানা গেছে, আনচেলত্তি আলাদাভাবে ১১ জন একাদশের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, শুক্রবারের ম্যাচে তারা শুরুর একাদশে থাকবেন।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি আবারও বলেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স ও ফল নিয়ে তিনি একেবারেই সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, ‘দল খুশি ছিল না, কারণ অভিষেক ম্যাচটা ভালো হয়নি, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা। কাল আমরা ভিন্ন একটা খেলা খেলব, অনেক বেশি ভালো খেলতে চাই আমরা।’

হাইতি সম্পর্কে আনচেলত্তি প্রশংসা করেন। স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারা দলটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্কটল্যান্ডের সঙ্গে তাদের ম্যাচটা সমানে সমানে ছিল। হাইতি শারীরিকভাবে বেশ শক্তি দেখিয়েছে। তারা সুসংগঠিত দল, পরিষ্কার একটা সিস্টেম আছে, আর একজন লম্বা সেন্টার ফরোয়ার্ড আছে। তারা ভালো ফুটবল খেলে, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে। তাদের সম্মান করতে হবে, সব প্রতিপক্ষের মতোই। এটা বিশ্বকাপ, সবাই খুব অনুপ্রাণিত। কোনো ম্যাচেরই ফল আগে থেকে নির্ধারিত নয়, সব ম্যাচই সমানে সমানে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

ব্রাজিল কোচ হিসেবে চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তি বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলি, এখানে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে থাকাটা একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। চাপ আমাকে সামলাতেই হবে। মরক্কোর বিপক্ষে ফলটা ভালো হয়নি, কিন্তু আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। প্রথম ম্যাচেই কেউ বিশ্বকাপ জেতে না। আমাদের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। খেলোয়াড়দের আত্মসমালোচনা ইতিবাচক ছিল। গত কয়েক দিন ধরে আমরা এটা সমাধানের চেষ্টা করছি, আর আমার মনে হয় আমরা পারব। তাড়াতাড়ি হোক বা দেরিতে, আমরা এর সমাধান করব। আমি আত্মবিশ্বাসী যে দলটা এই বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।’

একাদশ নিয়ে খেলোয়াড়রা আগে থেকে জানেন কিনা জানতে চাইলে আনচেলত্তি বলেন, ‘না, আমি কাল দলকে জানাব। এখন সঠিক সময় বলে মনে করি না, ব্যাস এটুকুই। এখনই একাদশ বলে দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। ফুটবলে কোনো গোপনীয়তা নেই। তবে আমি আগে খেলোয়াড়দের জানাতে পছন্দ করি।’

দলে কী উন্নতি দরকার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খেলার মান বাড়াতে চাই, আরও ভারসাম্য চাই, সঠিক সময়ে চাপ প্রয়োগ করতে চাই। এসব দিক নিয়ে দলকে উন্নত করতে চাই।’

কাসেমিরো ও ইবানিয়েজ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকায় এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তি বলেন, ‘অবশ্যই, কার্ড পরের ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই মরক্কোর ম্যাচে বিরতির সময় দুজনকেই বদলি করেছিলাম।’

এরপরই কথা উঠল পরিবর্তন নিয়ে, তিনি ইঙ্গিত দিলেন ফ্রেশ খেলোয়াড়দের দলে আনার। সেটা করতে হলে তারকায় ঠাসা একাদশ থেকে বেশ কিছু তারকাকে বেঞ্চে চলে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কিছু পরিবর্তন আমরা আনতে যাচ্ছি, যারা তুলনামূলক বেশি ফ্রেশ আছে, এমন কিছু খেলোয়াড় নিয়ে আসব। আমাদের ভারসাম্য আর মান বাড়াতে হবে। পাসিং ভুল কমাতে হবে। এটা করার সামর্থ্য আমাদের আছে, একটা উপভোগ্য খেলা উপহার দেওয়ার সামর্থ্য আছে। আমাদের কাছে শক্তি ও ক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। সম্ভাবনার লক্ষ্য হলো আরও ভালো করা। আর আমাদের ভালো করতেই হবে।’

এনদ্রিক খেলবেন কিনা জানতে চাইলে আনচেলত্তি হেসে বলেন, ‘সঠিক সময়ে এনদ্রিককে নামাতে হবে। একটু অপেক্ষা করি। এটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। খেলার প্রথমার্ধটা ছিল অপ্রত্যাশিত। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ অভিষেক আর জার্সির ভার খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। ভালো শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। দলকে নিখুঁতের চেয়েও বেশি কিছু হতে হবে, সহনশীল হতে হবে। দলটা সহনশীল, আর উন্নতি করবে।’

রাফিনিয়ার সেরা পজিশন কোনটি জানতে চাইলে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় রাফিনিয়া আক্রমণের সব পজিশনেই খেলতে পারে। লিডস ও বার্সেলোনায় সে ডান দিক থেকে শুরু করেছিল, পরে বাঁ দিকে গিয়েছিল, আর সবসময়ই সেখানে দারুণ খেলেছে। এখানেও সে দারুণ খেলবে। আমাদের শান্ত আর ধৈর্যশীল থাকতে হবে। রাফিনিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের পুরো শান্তি আর ধৈর্য দরকার। তাকে আত্মবিশ্বাস দিতে হবে। তার নিজের ওপর পুরো আত্মবিশ্বাস আছে, কারণ আমার কাছে সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন।’

কুনিয়া, ইগর থিয়াগো ও এনদ্রিকের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাইলে আনচেলত্তি বলেন, ‘মাথেউস কুনিয়া বেশি লিংক-আপ খেলোয়াড়, টার্গেট ম্যানের চেয়ে সেকেন্ড স্ট্রাইকারের গুণ তার বেশি, যা ইগর থিয়াগোর আছে। সে শক্তিশালী, খুব আক্রমণাত্মক। এনদ্রিক এই দুইয়ের কোনোটাই নয়। এনদ্রিক একটা অসাধারণ প্রতিভা। ব্রাজিল এই বিশ্বকাপ আর পরের বিশ্বকাপেও তার গুণাবলির সুবিধা নেবে। সে ধৈর্যশীল, তাড়াহুড়া করে না, বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক। তার পরিবারও ধৈর্যশীল, এটাও গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক।’

ব্রাজিলের পরিষ্কার খেলার ধরন নেই কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেন, ‘না। আমি দলের জন্য একটা পরিষ্কার পরিচয় চাই না, কারণ আমার দলকে অনেক কিছু করতে হবে। লো ব্লক দিয়ে রক্ষণ করতে হবে, খেলোয়াড়দের মান কাজে লাগিয়ে আক্রমণ করতে হবে। পরিষ্কার পরিচয় আশা করার দরকার নেই, কারণ আমি সেটা চাই না। আমি এমন একটা দল চাই, যারা ফুটবলের অনেক দিক খেলতে জানে।’

এই বিশ্বকাপ কি তারকাদের বিশ্বকাপ, এই প্রশ্নে আনচেলত্তি বলেন, ‘কিছু দল আছে যারা খুব ভালো খেলে, তীব্রতা নিয়ে খেলে। আমার মনে হয় এটা হাই ইন্টেন্সিটির একটা বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা খুব ইন্টেন্স ফুটবল খেলে, তবে এমন দলও আছে যারা যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে খেলে, আক্রমণাত্মকভাবে রক্ষণ করে। তারকারা এই বিশ্বকাপের ফল নির্ধারণ করবে না। আমি এটাই মনে করি।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.