‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’— তাকবির ও তালবিয়ায় মুখরিত হবে পুরো পৃথিবী

0

জিলহজ মাস এলেই বদলে যায় মুসলিম বিশ্বের আবহ। মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা থেকে শুরু করে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ধ্বনিত হতে থাকে এক মহিমান্বিত আহ্বান— ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার সুমধুর ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মসজিদ, ঘরবাড়ি, রাস্তা এমনকি শপিংমলও। এটি শুধু উচ্চারণ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ।

আরব বিশ্বসহ অনেক দেশেই জিলহজের শুরু থেকেই বাড়ির সামনে ও জনসমাগমস্থলে তাকবিরে তাশরিকের সাউন্ড বাজতে শোনা যায়। হজযাত্রীদের কণ্ঠে তালবিয়ার ধ্বনি যেন গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।

তাকবির ও তালবিয়া : হজের প্রাণস্পন্দন

মহান আল্লাহ তাআলা হজের মৌসুমে মুমিন মুসলমানের জন্য তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়া পাঠকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। আইয়ামে তাশরিকের ৫ দিন প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। আর হজ পালনকারীদের জন্য তালবিয়া ও তাকবির— উভয়টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

হজের সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই পাঠ করেছেন। হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনামুখী হাজিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

তালবিয়ার এই ধ্বনি আর তাকবিরের ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মক্কা নগরী, মিনা, আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা।

জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলমানরা তাকবির ও তালবিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করতে থাকেন আল্লাহর বড়ত্ব এবং তার স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার।

তাকবিরে তাশরিক

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

অর্থ: ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’

হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী জিলহজ মাজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। হজে না গেলেও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য এই তাকবির পড়া ওয়াজিব। একাধিকবার পড়া মুস্তাহাব।

তালবিয়া : বান্দার উপস্থিতির ঘোষণা

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ

لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ

اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ

لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,

লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,

ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,

লা শারিকা লাক।

অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।

আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।

আপনার কোনো অংশীদার নেই।’

হাজিগণ উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পাঠ করেন। বিশেষ করে—

> আরাফাতের ময়দানে

> মিনায়

> মুজদালিফায়

> হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার পথে

> উঁচু স্থানে আরোহন বা নিচে নামার সময়

এমনকি চলাফেরা, বিশ্রাম, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং ফরজ-নফল নামাজের পরও বেশি বেশি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল।

তাকবির ও তালবিয়া শুধু কিছু শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীরতম আত্মসমর্পণের ভাষা। এই ধ্বনি মুসলিম উম্মাহকে মনে করিয়ে দেয়— আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা, তারই ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন পরিচালনা করি।

জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা শুধু একটি আমল নয়, বরং ইমানকে জীবন্ত রাখার এক অপূর্ব উপায়। আসুন, এই পবিত্র সময়গুলোতে আমরা সবাই আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করি, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করি এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত রাখি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.