চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিগত ১৭ বছরে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের নানা ধরনের অনিয়ম ও পরিচালনাগত অদক্ষতা কাটিয়ে উঠে বন্দরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন (২৪/৭) কার্যক্রম সচল রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করেছে।
তিনি জানান, ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ছিল ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউ (TEUs)।
২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউ কন্টেইনারে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ ও পরিচালনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংও পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে ডিজিটালাইজেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় অনলাইন পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট এবং বিভিন্ন অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইপিএস কোড অনুযায়ী বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও সহজে বন্দর ফি পরিশোধের জন্য অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহন প্রবেশ সহজ করতে ই-গেট পাস চালু এবং ‘পেপারলেস পোর্ট’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিপিএ (CPA) এসকেওয়াই (SKY) ও পোর্ট সিঙ্গেল উইনডো (Port Single Window) চালু করা হয়েছে। বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পাঁচ টন ধারণক্ষমতার ফর্কলিফট সংগ্রহের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুটি এম্পটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ফর্কলিফট এবং দুটি ১০ টন ফর্কলিফট সংগ্রহের দরপত্র মূল্যায়নাধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।