ভারতে তেলাপোকার ‘ভয়ে কাঁপছে’ বিজেপি সরকার!
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রচারণামূলক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভারত সরকারের অনুরোধে এক্স কর্তৃপক্ষ দেশটিতে এই অ্যাকাউন্টটি অবরুদ্ধ করে।
বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের প্রতিবাদে সম্প্রতি এই ডিজিটাল আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। ইনস্টাগ্রামে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির অনুসারী সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পরপরই দেশটিতে সিজেপির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
গত ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে বেকার যুবকদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ বা পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে তৈরি হওয়া অ্যাকাউন্টটি মাত্র কয়েকদিনে ইনস্টাগ্রামে দেড় কোটি অনুসারী লাভ করে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসারী সংখ্যাকে (৮৭ লাখ) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অনুসারী সংখ্যাকে (১ কোটি ৩২ লাখ) ছাড়িয়ে যায়।
এক্স অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা, পুনের ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ইনস্টাগ্রামে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তারা আমাদের এত ভয় পাচ্ছে কেন?’
অভিজিৎ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার কারণেই হয়তো সরকার তাদের অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষের একটি ‘আত্মঘাতী গোল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এমন কিছু যে ঘটতে যাচ্ছে তা তারা আগেই অনুমান করেছিলেন। অ্যাকাউন্ট বন্ধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে একটি নতুন এক্স অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক উন্মুক্ত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা কোনো কর্মসংস্থান পায় না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তথ্য অধিকার কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।’
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ভারতের ‘জেন জি’ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর জবাবে শনিবার অভিজিৎ দিপকে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে চলে আসে, তবে কী হবে?’ এর পরদিনই তিনি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন।
শুরুতে এটি মিমভিত্তিক প্রচারণা হিসেবে দেখা হলেও দ্রুত তা বড় ডিজিটাল আন্দোলনে পরিণত হয়।
তবে পরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তার দাবি, তিনি তরুণদের নয়, ভুয়া সনদ ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করেছিলেন।
তবে এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ থামেনি। আম আদমি পার্টির (আপ) প্রচারণা দলের সাবেক কর্মী ও সাংবাদিকতার পটভূমি থেকে আসা অভিজিৎ দিপকের এই ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এখন ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অ্যাকাউন্ট বন্ধের পদক্ষেপ প্ল্যাটফর্মটিকে তরুণদের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে পারে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মোদী সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র: স্ক্রল ডটইন