চামচেই বদলে যেতে পারে আপনার সৌন্দর্যচর্চা, জেনে নিন গোপন কৌশল
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ নিজেকে অচেনা লাগলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। চোখ-মুখ ফোলা, ত্বকের আগের টানটান ভাব হারিয়ে যাওয়া-এসব দেখে দুশ্চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীর খুব দ্রুত পরিবর্তনের সংকেত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মুখ ফোলার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওয়াটার রিটেনশন বা শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়া। তবে ভালো খবর হলো, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক সমস্যা এবং সহজ কিছু উপায়ে ঘরেই সমাধান করা সম্ভব।
মুখ ফোলার প্রধান কারণগুলো কী?
চিকিৎসকদের মতে, মুখ ফোলার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ সবচেয়ে বেশি দায়ী। প্রথমত, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়া শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে সকালে মুখ ফুলে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি না পান করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং তখনো পানি জমে থাকার প্রবণতা তৈরি হয়। তৃতীয়ত, অনিয়মিত বা কম ঘুমও মুখ ফোলার একটি বড় কারণ।
বিশেষ করে রাতে ভারী খাবার খাওয়া, ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং কখনো কখনো অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে পরের সকালে মুখে এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। অনেক সময় এই ফোলা ভাব কিছু সময়ের মধ্যেই কমে আসে, যা নির্দেশ করে এটি সাময়িক সমস্যা। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে ফোলা ভাব থেকে যায়, তাহলে এটি অ্যালার্জি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
দ্রুত মুখ ফোলা কমানোর সহজ ঘরোয়া উপায়
হঠাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বা বাইরে যাওয়ার সময় মুখ ফোলা থাকলে কিছু সহজ পদ্ধতিতে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
এই ফেসিয়াল ম্যাসাজের জন্য প্রয়োজন ২টি টেবিল চামচ, নারিকেল,জলপাই,পুদিনা বা এসেনশিয়াল অয়েল এবং বরফের টুকরো নিন। প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী অয়েল লাগান। এরপর কপালের মাঝখান থেকে চামচ দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে উপরের দিকে ম্যাসাজ করুন, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গালের অংশে চোয়ালের রেখা থেকে উপরের দিকে চামচ টানুন, এটি দুইবার করুন। চোখের ফোলাভাব কমাতে ঠান্ডা চামচ বন্ধ চোখের উপর আলতোভাবে রাখুন। পুরো মুখে একইভাবে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে ও ফোলা ভাব কমে। এই প্রক্রিয়া মাত্র ১০ মিনিটে করা যায় এবং ত্বককে সতেজ ও টানটান রাখতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা চামচ ব্যবহার
দুটি স্টিলের চামচ ফ্রিজে রেখে ভালোভাবে ঠান্ডা করে নিন। এরপর সেই চামচ চোখের নিচে ও গালে আলতোভাবে চেপে ধরুন। ঠান্ডা তাপমাত্রা রক্তনালি সংকুচিত করে ফোলা ভাব দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। টি একটি সহজ কিন্তু কার্যকর ঘরোয়া উপায় হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন।
ম্যাসাজের পদ্ধতি
দুটি চামচ দু’হাতে নিয়ে চামচের চওড়া অংশের পেছনের দিকটা গালের ওপর রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে সেটি কানের দিকে টেনে নিন। এই প্রক্রিয়াটি অন্তত ১০ বার পুনরাবৃত্তি করুন। এতে মুখের রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং জমে থাকা তরল সহজে বের হয়ে যায়।
এরপর ঠোঁটের দুই পাশ থেকে গালের ওপর দিয়ে চামচ টেনে কপালের দুই পাশে নিয়ে যান। একইভাবে ভ্রুর ওপর থেকে কপালের ওপরের দিকে ধীরে ধীরে টানুন। এই ধরণের মুভমেন্ট মুখের পেশিকে শিথিল করে এবং ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে।
বরফ পানি বা কোল্ড কম্প্রেস
ঘুম থেকে উঠে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সতেজতা পাওয়া যায়। চাইলে আইস প্যাক বা কোল্ড কম্প্রেস ব্যবহার করলেও একই ফল পাওয়া যায়। এটি ত্বকের ফোলা ভাব কমাতে কার্যকর।
হালকা মুখ ম্যাসাজ
আঙুলের ডগা দিয়ে খুব আলতোভাবে মুখে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল সহজে বের হয়ে যায় এবং মুখ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। নিয়মিত ম্যাসাজ ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান
শরীর যদি পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকে, তাহলে পানি জমে থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এটি শুধু মুখ ফোলা কমায় না, বরং পুরো শরীরকে সুস্থ রাখে।
যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত
মুখ ফোলা সমস্যা কমাতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা খুব জরুরি। রাতে দেরিতে খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার যেমন চিপস, ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা কমানোও উপকারী। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস না থাকলেও মুখ ফোলার সমস্যা বাড়তে পারে।
সূত্র: বি বিউটিফুল ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস