অপরাধ ঘটার পর নয়, আগেই অপরাধের পূর্বাভাস এবং প্রতিরোধে জোর দিতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রচলিত প্রতিক্রিয়াশীল পুলিশিং থেকে বের হয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক প্রতিরোধমূলক পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা যায়।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অপরাধের পূর্বাভাস এবং প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেয়, যা মূলত রিঅ্যাকটিভ (প্রতিক্রিয়াশীল) পুলিশিং। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো প্রিভেন্টিভ পুলিশিং বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা।
‘ধরুন, যদি বলা হয় ডাকাতি হয়ে গেছে, এখন পুলিশ যাবে। এটা প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা। কিন্তু সমাজে এমন অবস্থা কি আমরা সৃষ্টি করতে পারি না, যেখানে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে আগেই গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে, যাতে অপরাধটাই সংঘটিত না হতে পারে,’ প্রশ্ন করেন মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
তিনি নির্দেশ দেন- তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করুন। বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে পাড়া-মহল্লায় অপরাধীদের অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যক্তিগত সততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। বাহিনীর শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চেইন অব কমান্ড যারা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পরদিনই বার্তা দিয়েছি। চেইন অব কমান্ড বজায় রাখবেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। যে কোনো দুর্নীতির অভিযোগে আমরা বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’