লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে
লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালী আক্তারের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘কোনও কিছু দিয়ে দিপালীকে (জীবিত) ফেরত আনা যাবে না, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সচেষ্ট আছি। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেছেন, এই যুদ্ধ যখন থেকে শুরু হয়েছে আমাদের একটাই টার্গেট যে, আমাদের বাংলাদেশি ভাইবোনরা যে যেখানে আছে মধ্যপ্রাচ্যে তারা তাদের নিরাপত্তা আমাদের নাম্বার ওয়ান প্রায়রিটি এবং সেটা আমরা নিরলসভাবে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
দিপালী আক্তারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারের জন্য যদি আরও কিছু করার থাকে, সরকার তা করার জন্য সচেষ্ট আছে। সরকার সবসময় দিপালীর পরিবারের পাশে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর পর সবমিলিয়ে আট বাংলাদেশ মারা গেছেন, এরমধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে এসেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ যে দিপালী আক্তারের মরদেহ আসলো, সেটা নিয়ে ছয়জন। তার মধ্যে সৌদি আরবে একজনকে দাফন করতে হয়েছে কারণ তাকে আনার মতো অবস্থা ছিল না। তার দেহাবশেষ যা ছিল এবং ইরাকে একজন নিহত হয়েছে, সেটা এখনো আমাদের ফ্লাইট না থাকার কারণে আমরা আনতে পারছি না।’
মরদেহ দেশে আনতে বিলম্ব হচ্ছে কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা যুদ্ধ তখনও চলমান ছিল এবং আমাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এটা সংযুক্তির মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে দেহাবশেষ বা মরদেহ ফেরত আনতে হয়। প্রথম কথা ফ্লাইট চলতে হবে এবং আমাদের সৌদি আরবের সাহায্য নিতে হয়। বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ স্থাপন করে আমাদের মরদেহগুলো ফেরত আনতে হয়। তো যোগাযোগ স্থাপনটা ঠিকমত কিছু ফরমালিটিজ থাকে। একটা মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে কিছু ফরমালিটিস থাকে। যেহেতু যুদ্ধাবস্থা চলছে, বিভিন্ন দেশে সরকারের নিয়মকানুন মেনেই আমাদের আনতে হচ্ছে। তো সেই জন্যই সময়টা লাগছে কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি যে যত তাড়াতাড়ি আনতে পারি।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল লেবানন প্রবাসী দিপালী বৈরুত এর হামরা এলাকায় তার কফিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে ইসরায়েলের ভয়াবহ (এয়ার স্ট্রাইক) হামলায় নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, একই আক্রমণে দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। কফিলের একজন পরিচিত প্রতিবেশীর বরাতে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস এসব তথ্য জানিয়েছে।