২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে দায়ীদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনবে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিমন্ত্রী

0

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগে আছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী, তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনবে।

সোমবার (৪ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন-এর মরদেহ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছায়। শামা ওবায়েদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন এবং বিমানবন্দরে উপস্থিত নিহত লিমনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।

মরদেহ গ্রহণ এবং হস্তান্তরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা দেয়।

প্রতিমন্ত্রী নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছে উল্লেখপূর্বক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নিহতদের পরিবারের প্রতি সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।

প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বেধে রাখা হয়েছিল। মোবাইল ফোনের লোকেশন ও গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গত ২৪ এপ্রিল একটি সেতু থেকে লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল পাশের একটি জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার কয়েকদিন পর একটি সোয়াট টিম সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহকে তার বাবা-মায়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে আদালত তাকে জামিনহীন কারাদণ্ড দিয়েছে। হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি নির্দেশ দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত হিশাম কোনোভাবেই ভুক্তভোগীদের পরিবার বা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।

গত ৩০ এপ্রিল নিহত লিমনের জানাজার নামায ফ্লোরিডার টাম্পার ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি অফ টাম্পা বে এরিয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লিমনের সহপাঠী, আত্মীয়, মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

এদিকে, বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতের পরিবারের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়েছে। পিনালেস কাউন্টির মেডিক্যাল এক্সামিনারকে মরদেহ একই ফিউনারেল হোমের কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মরদেহটি দ্রুততম সময়ে দেশে পাঠানোর জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল একযোগে কাজ করছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.