মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানো হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যাগ, ড্রেস ও জুতার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া জিডিপির একটি বড় অংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে যাতে তৃণমূলের হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও পর্যাপ্ত ডাক্তার নিশ্চিত করা যায়।
’তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল—সবারই লক্ষ্য এক এবং তা হলো একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া।
আমরা শিক্ষার কাজ শুরু করেছি, প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের লেখাপড়ায় আমরা ব্যাগ, বই, জুতা দিয়ে উৎসাহিত করতে চাচ্ছি। আমরা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানী বাড়াতে চাচ্ছি, যাতে করে তারা মনোযোগ দিতে পারে শিক্ষার্থীদের শেখানোর জন্য। এবং সেই জন্যই মাননীয় স্পিকার, আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে বলেছিলাম যে, আমরা আমাদের টোটাল বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমার দলের সংসদ সদস্য, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, বহু সংসদ সদস্য বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন যে, তাদের এলাকায় যে হাসপাতাল আছে, হয়তো একটি বিল্ডিং আছে মাত্র কিন্তু সেই বিল্ডিংয়ে হয়তো সঠিক ওষুধ নাই, সঠিক যন্ত্রপাতি নাই, সঠিকভাবে ডাক্তার নেই। মাননীয় স্পিকার, সেজন্যই আমরা ঠিক করেছি যে, আমরা জিডিপির একটি
বড় অংশ শিক্ষা এবং আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করবো।
নারী সমাজকে দেশ গঠনে আরও সম্পৃক্ত করতে মেয়েদের স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অবৈতনিক (ফ্রি) করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একইসঙ্গে মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের টোটাল জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের অবজ্ঞা করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসারে স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কোনো অনুদান নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বড় বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। ইতিমধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।