বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম ৪ বছরে বিশ্ববাজারে সর্বোচ্চ

0

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং দেওয়া হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও দিনের শেষে কিছুটা কমে তা ১১৪ ডলারে নেমে আসে।

ইউক্রেন যুদ্ধ-এর পর এমন বড় উত্থান আর দেখা যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ায় ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে সেখানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ফলে সেখানে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হলে শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে বিমান ভাড়াও বেড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, ইরান পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্যই বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।

সূত্র: বিবিসি

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.