দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যার থেকে বাদ পড়েনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোও। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তার লিখিত প্রশ্নে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করিয়া বলবেন কি, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা বৃদ্ধির জন্য সরকারের কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকিলে, তা কী?”

জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথাপি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায় সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।”

নিজের বক্তব্যের সময় ১০টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেগুলো হলো,

১. বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বাহির পথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনসহ বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

২. কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৩. গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপতৎপরতা রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৪. পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

৫. বিমানবন্দর এলাকায় চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

৬. গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৭. বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৮. নিষিদ্ধ কোনও বস্তু যাতে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৯. সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

১০. বিমানবন্দরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক লাগেজ সিস্টেম, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাসসহ বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রী হয়রারি রোধে কঠোর মনিটরিং এবং সহায়তা ডেস্ক চালু করা হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.