ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ট্রেনের ছাদে ওঠা ঠেকানো হবে: রেলমন্ত্রী রবিউল

0

কমলাপুর স্টেশ‌নে ঘরমু‌খো মানু‌ষের ভিড় বাড়‌ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেন যো‌গে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। ঘরমুখো মানুষের চলাচলের খোঁজখবর নিতে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি জানান, ট্রেনের ছাদে ওঠার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে গ্রামের পথে ছুটছে নগরবাসী। পথে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে ঠিকই, তবে আগের মতো রেলস্টেশনে উপচেপড়া ভিড় নেই। সব ট্রেন সময়মতো ছাড়ায় রয়েছে স্বস্তি।

যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখনো তেমন ভিড় নেই। আরামেই যেতে পারবো। আগের ট্রেনগুলো ঠিক সময়েই গেছে। আশা করি, এবার ট্রেন লেট করবে না। সময়মতোই ছাড়বে।’

প্রথমদিনের ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলছেন, সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট যাত্রীরা।

রবিউল আলম বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকলেও সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন এবং রেলসহ অন্যান্য পরিবহনে যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘৩ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় এবং যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট কিনেছেন। এ সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচণ্ড চাপ দেখা যায়। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রেলের যে সেবার মান যাত্রীরা এখন দেখছেন, তা আমরা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চাই। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী রেল যোগাযোগকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করতে নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।’

তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলে অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২৪টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। মিটারগেজে আরও প্রায় ১৪টি কোচ এবং ব্রডগেজ লাইনে প্রায় পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে যাতায়াতের চেষ্টা করেন উল্লেখ করে রবিউল আলম বলেন, ‘এ প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল যাত্রীর চাপে কখনো কখনো দু-একজন ছাদে উঠে যেতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কেউ ছাদে উঠতে না পারে।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.