গাজায় চলমান যুদ্ধকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

0

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় চলমান যুদ্ধকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার এই শান্তির আহ্বান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সঙ্গে স্পষ্টতই সাংঘর্ষিক। কারণ, ওয়াশিংটন সম্প্রতি একাধিকবার গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলা হলে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ দেশ সমর্থন দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। প্রস্তাবে গাজায় ‘অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার ওপর সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদের ১০ নির্বাচিত সদস্য রাষ্ট্রের উদ্যোগে আনা হয়। তারা গাজায় প্রায় দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতির ওপর জোর দেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।

কিন্তু প্রত্যাশিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবটি আটকে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মার্কিন উপদেষ্টা মর্গান ওরট্যাগাস বলেন, এ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নতুন কিছু নয়।

ভোটাভুটির পর জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন ভেটো নিরাপত্তা পরিষদকে তার ন্যায্য ভূমিকা পালনে বাধা দিচ্ছে এবং গণহত্যার মুখে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত করার পথ রুদ্ধ করেছে।

ইসরাইলের স্থল অভিযানে নীরব ট্রাম্প

জাতিসংঘে শান্তির বার্তা দিলেও গাজায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত নীরব রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে কোনো বাস্তব চাপ প্রয়োগ করেনি। এতে স্পষ্ট হয়, মার্কিন নীতিতে মানবিক বিবেচনার চেয়ে কৌশলগত মিত্রতার গুরুত্বই বেশি।

জাতিসংঘে ভাষণে যা বললেন ট্রাম্প

ট্রাম্প জাতিসংঘ ভাষণে বলেন, গাজায় যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। তবে একই ভাষণে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সমালোচনা করে হামাসকে দেওয়া ‘পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গুতেরেস জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কোনো পুরস্কার নয়, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার।

ট্রাম্পের ভাষণে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কোনো সমালোচনা ছিল না। বরং তিনি বন্দিদের মুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক প্রচেষ্টায় সক্রিয় হিসেবে তুলে ধরেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে শান্তি প্রচেষ্টার পক্ষপাতী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছে, অন্যদিকে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে আড়াল করছে।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের শান্তির আহ্বান ও নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো—এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মানবিক দায়বদ্ধতার কথা বলছে, অন্যদিকে বাস্তবে কৌশলগত মিত্র ইসরাইলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে গাজা সংকট নিরসনে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ও পদক্ষেপের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.