দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক বছরে বৈষম্য অনেকখানি বেড়েছে: সাইফুল হক

0

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এরই মধ্যে ১৩ মাস পার হয়েছে। আমরা যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক বছরে বৈষম্য অনেকখানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতে লক্ষাধিক শ্রমিক এক বছরে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের পেটে লাথি পড়েছে। রিকশা শ্রমিক, শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ কোনো রকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে, কর্মসংস্থানের দৃশ্যমান কোনো উত্তর (অগ্রগতি) নেই।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত পদযাত্রা শুরুর আগে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে বিনিয়োগের পরিস্থিতি খারাপ উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, সবাই নির্বাচিত সরকারের জন্যই নাকি অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে বাজারে আগুন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। সরকারের এদিকে কোনো মনোযোগ আছে বলে, এ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা লক্ষ্য করিনি। এর মধ্যে ঢাকা শহর বাস্তবে এখন একটা বাসযোগ্যহীন শহরে পরিণত হয়েছে।

জুলাই গণহত্যার বিচার ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে সাইফুল হক বলেন, সরকারকে আমরা বলেছিলাম- আপনাদের তিন চারটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট। তার মধ্যে, জুলাই আগস্টে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এরই মধ্যে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের কাজ শুরু করেছে। আমরা বলেছি, প্রয়োজনবোধে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান, বিচারের কাজ ত্বরান্বিত করেন। আগামী নির্বাচনের আগে নিশ্চয়ই বিচারটা দেশের মানুষ দৃশ্যমান দেখতে চায়। এখনো শহীদদের পরিবারগুলোর কোনো পুনর্বাসন হয়নি।

জুলাই সনদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় এজেন্ডা উত্থাপনের কারণে জুলাই সনদ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আশা করতে চাই, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জুলাই সনদ সফল হবে। আমরা এখন আলোচনা করছি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। এরই মধ্যে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, বাস্তবায়নটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখন রাজপথে চলে এসেছে। ঘরের আলোচনা, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা কোনো কোনো দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজপথে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা বলেছি আমাদের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে যে মতপার্থক্য আছে- আমরা যদি এতদূর আসতে পারি তাহলে আলাপ আলোচনা করে, বোঝাপড়া তৈরি করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রক্রিয়া পদ্ধতি সে ব্যাপারেও আমরা একমত হতে পারবো।

গণভোট এবং গণপরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেকে বলার চেষ্টা করছেন গণভোটের আয়োজন করতে চান। এতগুলো প্রশ্নে ভিন্নমত রেখে, নোট অব ডিসেন্ট রেখে পৃথিবীর কোথাও কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশে অতীতের গণভোটের অভিজ্ঞতা ভালো না। এতগুলো মতপার্থক্য রেখে গণভোটে যাওয়া মানে একটা নৈরাজ্যকে ডেকে আনা। সুতরাং এটা কোন যুদ্ধিসঙ্গত প্রস্তাব না। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন তারা গণপরিষদে নির্বাচন করবেন। গণপরিষদে নির্বাচন হয় যখন কোনো সংবিধান থাকে না, কোনো শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতি, কোনো শাসন থাকে না। কিন্তু বাস্তবে শত সমালোচনার পরও একটা সংবিধানের অধীনে সরকার শপথ নিয়েছে। ১৩ মাস ধরে দেশ চলছে। সুতরাং এখানে গণপরিষদের নির্বাচন প্রশ্নটা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.