ইসরাইল বর্জন নিষেধাজ্ঞা বাতিলের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে

0

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেমোক্রেট দলের প্রগতিশীল সদস্যরা ইসরাইলবিরোধী বর্জনের (বিডিএস) ওপর থাকা দশ বছর পুরনো নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা ২০১৫ সাল থেকে বলবৎ রয়েছে এবং এর অধীনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া কোম্পানিগুলোর ওপর ইলিনয়ের পেনশন তহবিল বিনিয়োগ নিষিদ্ধ।

বিডিএস আন্দোলনটি শুরু হয় ২০ বছর আগে, শান্তিপূর্ণ পন্থায় ইসরাইলের ফিলিস্তিন দখলের বিরোধিতা করতে এবং এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মডেল অনুসরণ করে গড়ে ওঠে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি রাজ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি সরকারিভাবে ইসরাইলবিরোধী অবস্থান নেয়, তাহলে তাদের সঙ্গে সরকারি চুক্তি নিষিদ্ধ এমন আইন চালু আছে। ইলিনয় ছিল এই প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রদূত।

এই আইনের আওতায় ইলিনয় ইনভেস্টমেন্ট পলিসি বোর্ড গঠন করা হয়, যার কাজ হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে তারা ইসরাইলবিরোধী কি না তা নির্ধারণ করা। বর্তমানে যে ৩০টি কোম্পানি এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এয়ার কানাডা ও ইউনিলিভার।

এয়ার কানাডা এই বছরের শুরুর দিকে ক্ষমা চেয়েছিল, কারণ তাদের বিমানের ইন-ফ্লাইট মানচিত্রে ইসরাইলের নাম লেখা ছিল না, বরং সেখানে শুধু ফিলিস্তিন অঞ্চল উল্লেখ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ইউনিলিভার ২০২১ সালে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ১৯৬৭ সালে ইসরাইল দখল করা ভূখণ্ডে (মূলত পশ্চিম তীর) বেন অ্যান্ড জেরিজ আইসক্রিম বিক্রি করবে না, কারণ জাতিসংঘ ওই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবৈধ দখল বলে মনে করে।

এখন, ইলিনয়ের প্রথম নির্বাচিত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা আবদেলনাসের রাশিদ নতুন বিল (হাউস বিল ২৭২৩) উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা।

রাশিদ বলেন, মানুষ যেন তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশেষ করে মানবাধিকার বিষয়ক মতপ্রকাশে, অবাধে কথা বলতে পারে—এই অধিকারের সুরক্ষাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের উচিত ইতিহাসের সঠিক পক্ষে থাকা এবং কোনো দমন-পীড়নের অংশ না হওয়া।

বিলটি এক-পঞ্চমাংশ ডেমোক্রেট সদস্যের প্রাথমিক সমর্থন পেলেও এখন স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। যদিও ইলিনয়ের আইনসভায় ডেমোক্রেটদের সুপারমেজরিটি রয়েছে, তথাপি রাজনৈতিক চাপও রয়েছে—বিশেষ করে ইসরাইলপন্থী ধনী ও সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গভর্নর জে বি প্রিটজকারের অবস্থানের কারণে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রভাবশালী প্রো-ইসরাইল গ্রুপ ‘জে স্ট্রিট’ যদিও সরাসরি বয়কট সংক্রান্ত আইন নিয়ে অবস্থান নেয়নি, তবে তারা ১৯৬৭ সালের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ ইসরাইলবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে, পুরো রাষ্ট্র বিলুপ্তির আহ্বানকে নয়।

ইলিনয়ের সিনেটেও কয়েকজন আইনপ্রণেতা সম্প্রতি ইসরাইলবিরোধী বয়কট সংক্রান্ত একটি বিল থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস ডিক সিম্পসন বলেন, যখন কোনো বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তখন তা নিয়ে ভোট দিয়ে শুধু ভোটারদের ক্ষুব্ধ করার দরকার কী?

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.