সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা স্বীকার ও প্রশংসা যুক্তরাষ্ট্রের

0

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা স্বীকার ও প্রশংসা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

ট্রাম্প পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর শেহবাজ এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প ২০২১ সালের কাবুল বিমানবন্দরে হামলার সঙ্গে যুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ গ্রেফতারের জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দেন।

কাবুল হামলার পরিপ্রেক্ষিত

২০২১ সালের ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্যসহ প্রায় ১৭০ আফগান নাগরিক নিহত হন। তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর কাবুল ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড়ে এই হামলা হয়। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের শেষ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসী শারিফউল্লাহ একজন শীর্ষস্থানীয় দায়েশ কমান্ডার। তিনি আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত অঞ্চলে পরিচালিত সফল অভিযানে আটক হন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান বরাবরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকেছে এবং কোনো দেশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়নি।

শাহবাজ বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অটল এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের দেশ এ যুদ্ধে ৮০,০০০-এর বেশি নাগরিক ও সৈন্যের জীবন উৎসর্গ করেছে।’

‘আমাদের নেতৃত্ব ও জনগণের সংকল্প দৃঢ়। আমরা সন্ত্রাসের শেকড় উৎপাটনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’

‘দানব’ গ্রেফতার

মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে এক যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি, কাবুল বিমানবন্দরে হামলার জন্য দায়ী শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এবং তাকে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে, যেখানে দ্রুত বিচার হবে।’

অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রশংসা সূচক করতালির পর ট্রাম্প পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি ১৩ নিহত সেনা সদস্যদের পরিবারকে খুব ভালোভাবে চিনি। আজ তাদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন’।

এ সময় ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে ‘অযোগ্য ও বিপর্যয়কর’ প্রত্যাহারের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিযুক্ত করেন।

‘আমি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছি না, তবে এটি যে ভঙ্গিতে করা হয়েছে, তা ছিল আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক মুহূর্তগুলোর একটি… এতটা অযোগ্যতা আগে কখনো দেখা যায়নি,’ বলেন ট্রাম্প।

সিআইএ-র সহায়তায় গ্রেফতার

একটি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসী নেতার অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

শারিফউল্লাহ ওরফে জাফর দায়েশ নেতা হিসেবে ২০২১ সালের হামলা পরিকল্পনার অন্যতম সন্দেহভাজন ছিলেন। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে আটক করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শারিফউল্লাহ ছিলেন ২৬ আগস্টের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফকে এই মামলার অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখার নির্দেশ দেন।

ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এক উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেন তিনি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্জিনিয়ার পূর্ব জেলা আদালতে মঙ্গলবার এক অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শারিফউল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনে সহায়তা ও ভয়াবহ প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এফবিআই-এর কর্মকর্তারা রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যেখানে তিনি দায়েশ-খোরাসানে (দায়েশ-ক) যোগদানের কথা স্বীকার করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.