সভরেইন বন্ডে ১ বিলিয়ন ডলার তুলতে চায় সরকার, মার্কিন-ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

0

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেইন বন্ড বা সার্বভৌম বন্ড ছাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বন্ড বিক্রি করে ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১০০ কোটি ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলার তুলতে চায় সরকার। এরই মধ্যে ইউরোপ ও নিউইয়র্কে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে জোরালো আগ্রহের আভাস পেয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (পিমকো), টেক্সাস প্যাসিফিক গ্রুপ (টিপিজি), ম্যাকোয়ার, গোল্ডেন ট্রি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও মেটলাইফসহ ১৫টি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই বন্ডের প্রতি প্রাথমিক আগ্রহ দেখিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গত শনিবার ব্লুমবার্গকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, আসন্ন বন্ড ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে জেপিমরগ্যান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি। তবে বন্ড বিক্রির এই পরিকল্পনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার বাড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে ঋণ নেওয়ার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো যখন উচ্চতর বৈশ্বিক ঋণব্যয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এই ঋণ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কী দামে বন্ড ছাড়া হবে, সে বিষয়ে ঢাকার অবস্থানকে প্রভাবিত করছে বলে জানান ঘানি। তিনি সরকারের বন্ড ইস্যু কমিটির প্রধান।

তানভীর শাহরিয়ার বলেন, ‘সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে, যা উদীয়মান বাজারগুলোর সুদের হারের ওপর প্রভাব ফেলবে। বন্ডের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক থাকতে যাচ্ছি এবং সেটার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়ে যাব।’ সরকার নিজস্ব অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখলেও মূলধনের ব্যয়ের বিষয়ে ‘সংবেদনশীল’ বলেও জানান তানভীর শাহরিয়ার।

গত সপ্তাহে ইউরোপে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রথম বৈশ্বিক ঋণ প্রস্তাবের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ জোরালো বলেই মনে হচ্ছে। তানভীর শাহরিয়ার বলেন, ‘সার্বভৌম বন্ডের প্রতি আগ্রহের মাত্রা অত্যন্ত বেশি।’ তিনি আরও জানান, এরপর নিউইয়র্কে সরকারের যে বৈঠকগুলো হয়েছে, সেগুলোও কঠোরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লেনদেনের কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তানভীর শাহরিয়ার। তিনি বলেন, চুক্তিটির সঙ্গে কিছু ‘আইনি বিষয়’ জড়িত রয়েছে, যেগুলোকে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নিতে হবে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১২ সালে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ঋণ বিক্রির ধারণাটি সামনে এনেছিল। পরে সরকার বিষয়টি আবারও বিবেচনা করেছিল, কিন্তু তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.