‘আমি’র বদলে ‘আমরা’ ধারণ করতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সমাজের প্রতিটি মানুষের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, সমাজে যার যে অর্জন, তার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়।
সমাজে বিদ্যমান সবকিছুতে ‘আমি’র পরিবর্তে আন্তরিকভাবে ‘আমরা’ ধারণ ও ব্যবহার করা গেলে সমাজ আরও সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে শ্রমিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের শ্রমের ধরন ও ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও সমাজ ও অর্থনীতিতে প্রত্যেকের অবদান রয়েছে।
প্রান্তিক শ্রমিক, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ন্যায্য মজুরি কোনো করুণা নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য। সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থায় নির্বাচিত বর্তমান সরকার তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, টেকসই শিল্প ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিলসের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন। তার উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে বিলস প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১২টি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বিলসের সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।
যৌথ দর-কষাকষি ও শ্রমিকদের অন্যান্য অধিকার বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান কাজ।
সম্মেলনে বক্তারা শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে সব শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। যেকোনো মূল্যে শিশু শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আবদুর রহমান তরফদার, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুটন, নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জান্না ভ্যান ডার লিন্ডেনসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও শ্রমিক নেতারা।