শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বাড়িতে মশা জন্মালেই শাস্তি
শ্রীলঙ্কায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে হাসপাতালগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বিশেষ দল গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে বিশেষ ইউনিটে যোগ দেবেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তাকারী বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। গত সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযানও শুরু করেছে তারা।
জলবায়ু পরিবর্তন ও শ্রীলঙ্কার সংকট
চলতি বছর শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৯ জন। তবে ২০১৭ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এ সংখ্যা এখনো কম। ওই বছর দেশটিতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা যান ৪৪০ জন।
ডেঙ্গু রোগের কারণে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং পেশিতে ব্যথা হতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এডিস মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে।
সাম্প্রতিক মৌসুমি বৃষ্টি, বন্যার পানি এবং যত্রতত্র ফেলে রাখা বর্জ্যের কারণে মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য ভাইরাস এখন আগের চেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার সরকারি ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নানগারা জানিয়েছেন, দেশটির হাসপাতালগুলোতে এরই মধ্যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি যেন ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ না হয়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি