সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

0

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না।

বুধবার (১ জুলাই) হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে নিজ বাসভবনে একটি স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত ড. আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আজ সেই হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো। এক দশক আগের ভয়াবহ সেই হামলায় সাহসী যে মানুষগুলো প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের মনে রাখার আহ্বান জানান অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা শুধু তাদের (নিহত ব্যক্তিরা) স্মৃতির প্রতি নয়, তাদের পরিবারগুলোর সাহস, সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। একজন মা ও অভিভাবক হিসেবে সন্তান ও পরিবারের সদস্য হারানো পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর সহমর্মিতা রইল। তাদের স্মৃতি যেন ঘৃণা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখায়। মানবতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মূল্যবোধ আমরা যেন সবসময় ধরে রাখি।

সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না।

এক দশক আগের এই জঙ্গি হামলায় নির্মমভাবে নিহত ইতালি ও জাপানের নাগরিকদের প্রসঙ্গ টানেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, নিহতরা এসেছিলেন বিভিন্ন পটভূমি থেকে। তাদের অধিকাংশই তরুণ, মেধাবী ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা মানুষ ছিলেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে বাংলাদেশের উন্নত সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করা। হামলার সময় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিও তার শ্রদ্ধা। তারা মনে করিয়ে দেন, অন্যের নিরাপত্তা ও দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে একটি নামফলকের সামনে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফারাজ আইয়াজ হোসেনের বড় ভাই যারেফ আয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও ঢাকায় অবস্থানকারী প্রবাসী ইতালীয়দের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.