অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি অর্থবছরে অর্থনীতিতে স্থবিরতা সত্ত্বেও মাত্র চার মাসের মধ্যে আমাদের সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর কারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি এসেছে। এর ফলে এরই মধ্যে শুধু এনবিআর প্রথমবারের মতো চার লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের মাইলস্টোন অতিক্রম করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে এবং আগামী অর্থবছরে এনবিআরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দক্ষতা বৃদ্ধি ও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার নীতি অনুসরণ করছি।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যয় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্রমান্বয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সে লক্ষ্যে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭.২৭ শতাংশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছি। অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছি।
সরকার আগামী অর্থবছরগুলোতে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ আরও বৃদ্ধি করবে এবং পরিচালন ব্যয়ের অংশ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে ব্যাপকহারে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে দেশের ঋণধারণ সক্ষমতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। যার ফলে আমাদের ঋণধারণ সক্ষমতার ঝুঁকি নিম্ন থেকে মধ্যম মানে অবনমিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকায়, যা জিডিপির ৩৮.৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২১.৫১ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭.১০ শতাংশ।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও এই ঋণ ও ঋণের সুদ আমাদের যথাসময়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের মাধ্যমে ঋণধারণ সক্ষমতাকে পুনরায় নিম্নঝুঁকি পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমরা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করছি।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিনিয়োগের রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সরকারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের চাহিদা কমবে।
সরকার আগামী অর্থবছরগুলোতে ঋণ-জিডিপি অনুপাত ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।