প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ: জ্বালানিমন্ত্রী

0

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দকে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি মুদ্রানীতি, কর-সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা বিবেচনায় নিলে এ খাতে এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সহায়তা।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯৯ দশমিক ১২ শতাংশ। আর পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫২ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ।
তিনি বলেন, এ বরাদ্দ অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছি। গত ১৫ বছরে এই মন্ত্রণালয়কে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে। এমনকি বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এমন সব চুক্তি করা হয়েছে, যেগুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিলেই সার্বভৌম গ্যারান্টি (সোভরেন গ্যারান্টি) নগদায়নের হুমকি দেওয়া হয়। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে (উইন-উইন) সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ খাতের আয়ের ওপর কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে দেশ সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) খাতে বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যানবাহনের করও কমানো হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ও আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি দেশের পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডকে স্মার্ট গ্রিডে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তান আমলে নির্মিত পুরোনো তেল শোধনাগারের পরিবর্তে আধুনিক দ্বিতীয় রিফাইনারি নির্মাণের কারিগরি দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।

ভুটান, নেপাল ও ভারতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জলবিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কম খরচে বিদ্যুৎ আমদানি করে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, অনেকে বাজেটে কম বরাদ্দের কথা বলছেন। কিন্তু কর অবকাশ ও শুল্কমুক্ত সুবিধাগুলো হিসাব করলে দেখা যাবে, এটিই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সহায়তাপ্রাপ্ত বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটের সুফল দেশবাসী খুব দ্রুতই পেতে শুরু করবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.