আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের অধিকার চাই- এই স্লোগানটা মুখরিত করা দরকার: গয়েশ্বর

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, পানির ন্যায্য হিস্যা বিষয়টি জাতিগতভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটা মোকাবিলা করা দরকার। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই ভুক্তভোগী। আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের অধিকার চাই- এই স্লোগানটা মুখরিত করা দরকার।

শনিবার (১৬ মে) রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংকীর্ণতার বাইরে গিয়ে আমার মনে হয় সব রাজনৈতিক দল, বিশেষত পরিবেশবাদী এবং সবকিছুকে সমন্বয় করে একটা জাতীয় কমিটির মাধ্যমে একটি আন্দোলন করা উচিত, যে আন্দোলনটা সামাজিকভাবে হতে পারে, রাজনৈতিকভাবেও হতে পারে। সরকার টু সরকার ঝগড়া-ফ্যাসাদ না করে আমরা-আমাদের জনগণ যদি তাদের প্রাপ্তির জন্য সংঘবদ্ধভাবে এই স্লোগানটা তুলতে পারে, তাহলে জাতিসঙ্ঘ থেকে আরম্ভ করে বিশ্বের সবাই সজাগ হবে এবং নড়েচড়ে বসবে। তারাও চেষ্টা করবে এই অভিন্ন চুক্তিগুলোর সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ রাখতে বা চাপ সৃষ্টি করতে। সেই কারণে এখানে কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন।

ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, জিয়াউর রহমান বুঝতে পারছিলেন যে তাদের থেকে পানি পাওয়াটা সহজ হবে না। সেই দূরদর্শিতা থেকেই তিনি খাল খননের কথা বলেছিলেন। এখন খাল খনন না হলে কী হয়? খাল খনন না হলে অথবা পানির স্রোতের বেগ যদি কম হয়, অর্থাৎ প্রবাহ যদি কমে, তখন স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেকটি নদীর তলদেশে আস্তে আস্তে পলি জমে বা সিল্টেশন হয়। এতে নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ধারণ ক্ষমতা কমে গেলে অল্প পানিতেই বন্যা দেখা দেয়- এগুলো কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা। সুতরাং, আমাদের পানির প্রবাহ শেষ সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। একটা নদী থেকে আরেকটা নদীতে যেভাবে পানি যায়, সেদিকে যদি পানির প্রবাহ না বাড়ে, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের নোনা পানি ঊর্ধ্বমুখী হবে, অর্থাৎ ভেতরের দিকে ঢুকতে থাকবে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হবে, মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব দেখা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজকে তিনটি সমস্যা- পানির সমস্যা, পরিবেশের সমস্যা এবং আরেকটি হলো সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের সমস্যা। কারণ শক্তির উৎসটা আসে অন্যভাবে। আগুন লাগলে আমার ঘরে না লাগলেও তাপ লাগবে, সুতরাং আমরা একটা তাপ অনুভব করছি। সে কারণে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এই বহুত্ববাদী দেশে আমরা সবাই যে একসাথে বসবাস করি, এটা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়।

পরিবেশের বিপর্যয়, সাম্প্রদায়িক বিপর্যয় এবং পানির চরম অভাব মিলে বাংলাদেশকে অনিশ্চিত পথে ঠেলে দেবে এমন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, সে কারণে সরকার, রাজনৈতিক দল, সবাই মিলে বিশেষত যারা যেভাবে আছেন, আমাদের এই আন্দোলনটা গড়ে তুলতে হবে। এর থেকে আমাদের মুক্তি চাই, আমরা সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্তি চাই, আমরা পরিবেশের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।

আলোচনা সভার এই আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.