উগ্র ইসরায়েলি সেটেলারদের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা

0

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা চালানো উগ্রবাদী ইসরায়েলি সেটেলারদের এবং তাদের সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউইউ)। জোটের ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। একই সঙ্গে হামাস নেতাদের ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দিয়েছেন কূটনীতিকরা।

কাজা কালাস বলেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণাম অবশ্যই ভোগ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট লিখেছেন, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিম তীরে উগ্রবাদী ও সহিংস বসতি স্থাপনে সমর্থন দেওয়ায় প্রধান ইসরায়েলি সংগঠন ও তাদের নেতাদের ওপর আজ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ধরনের গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের কারণে এই প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। তবে সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী এই নেতার ক্ষমতাচ্যুতি এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার ম্যাগয়ারের ক্ষমতা আরোহণের ফলে ইইউ-এর এই সিদ্ধান্তে আর কোনও বাধা রইলো না।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাতজন বসতি স্থাপনকারী এবং বসতি স্থাপনকারী সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে কিছু কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া বাকি আছে। এর আওতায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সা’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ইইউ খামখেয়ালি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে।

তবে ইইউ-এর একজন কর্মকর্তা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন, হামাস ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর একই দিনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে কোনও তুলনা করা হচ্ছে। বরং কিছু সদস্য দেশ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার শর্ত হিসেবে হামাসের ওপরও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণভাবে সব বসতি স্থাপনের ওপর নয়, বরং সুনির্দিষ্টভাবে সেই সব ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপর আরোপ করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.