বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচারকে সহ্য করে না, প্রমাণ করবে জুলাই জাদুঘর: স্পিকার

0

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জুলাইয়ে শহীদ মিনারে বিশাল গণসমাবেশ এবং রাজপথে লাখো মানুষের যে চিত্র, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা যে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই কল রেকর্ডও এখানে অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত আছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব দেখে যেমন ব্যথিত হবেন, তেমনি ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য অনুপ্রাণিত হবেন।

তিনি বলেছেন, এই জাদুঘর প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশের মানুষ কোনো স্বৈরাচারকে সহ্য করে না।

মঙ্গলবার (১২ মে) জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, জুলাই জাদুঘরটি দেখে আমি অত্যন্ত অভিভূত। এখানে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের মহৎ ইতিহাস- একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের মহান গণঅভ্যুত্থানের চিত্র অত্যন্ত চমৎকারভাবে ধারণ করা হয়েছে। আমি বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং এই সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

তিনি বলেন, এখানকার প্রদর্শনী দেখলে অশ্রু সম্বরণ করা কঠিন। যেভাবে এদেশের তরুণ ও শিশুরা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, তা সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এখানে শহীদদের লেখা কিছু চিঠি সংরক্ষিত আছে, যা তারা বুক পকেটে নিয়ে রাজপথে এসেছিলেন। তারা জানতেন যে মৃত্যু হতে পারে, তবুও তারা হেসে হেসে মৃত্যুর মোকাবিলা করেছেন। শহীদদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, তাদের শেষ চিঠি, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং তাদের মা-বাবার প্রতিকৃতি এখানে স্থান পেয়েছে। শহীদ মিনারে বিশাল গণসমাবেশ এবং রাজপথে লাখো মানুষের যে চিত্র, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা যে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই কল রেকর্ডও এখানে অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত আছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব দেখে যেমন ব্যথিত হবেন, তেমনি ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য অনুপ্রাণিত হবেন।

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার থেকে শিশুদের ওপর গুলি চালানো কিংবা আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের মতো ছাত্রদের হাসিমুখে বুক পেতে দেয়ার দৃশ্যগুলো সকলকে আবেগাপ্লুত করবে। এই জাদুঘরটি হবে আগামীর জন্য এক বিশাল সম্পদ। গত ১৬ বছর ধরে মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার গোষ্ঠী যেভাবে পাতানো নির্বাচন ও লুটপাট চালিয়েছে, তার সঠিক চিত্র এখানে দেখা যাবে। নিজের হাতে হত্যা করিয়ে আবার শহীদদের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেয়ার যে অভিনয় তিনি করেছেন, তা ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। এই জাদুঘর যতদিন থাকবে, মানুষ এখানে এসে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার অনুপ্রেরণা লাভ করবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা করছি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.