দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো। এ ক্ষেত্রে কারিআনা পাসধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
গতকাল সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সবার অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয় চিন্তা করব। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা ইবতেদায়ি ও কওমি শিক্ষাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহছানুল হক বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীদের একই ছাতার আওতায় আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ছাতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। গতকাল সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বিএনপিদলীয় সদস্য কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতার ভাতা সরবরাহে অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। অনেকের কাছে টাকা দাবি করা হয়। এটা অবশ্যই একটি দুর্নীতি। আমাদের চেষ্টা থাকবে সরবরাহ কার্যক্রমের বিষয়টি যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার মধ্য নিয়ে আসা।
ফ্যামিলি কার্ড নামে বড় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা থাকবে। বর্তমানে আমরা অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছি। এর থেকে দেশকে যেমন উঠিয়ে দাঁড় করাতে হবে, তেমনি আমরা চাইব সুবিধাভোগীরা যেন উপকৃত হয়।’
নোয়াখালী-২ আসনের এমপি জয়নাল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে তালিকাটা আমাদের হাতে রয়েছে তা আমরা যাচাই করছি। ফ্যাসিস্ট আমলে তালিকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা সংশোধন করে সুবিধাভোগীদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসব।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, ‘বিগত সময় তালিকা তৈরিতে অনেক স্বজনপ্রীতি হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার। বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে আমরা এটা করব। এ লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি।’