উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

0

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কমে যাবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকলে জানি যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকট চলছে এবং সে সংকটটা যত দীর্ঘায়িত হবে এটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ আসলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে খুঁজে বের করা কঠিন; সম্মিলিতভাবেই এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো যায়, না হলে অন্তত সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।

‘আমরা বারবার একটি কথা বলেছি যে বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। যদিও সাম্প্রতিককালে দেখেছি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। এই প্রশ্ন আসতেই পারে তাহলে কেন দীর্ঘ লাইন? গণমাধ্যমের বন্ধুরা অর্থাৎ আপনারাই কিন্তু এটি স্পষ্ট করেছেন। আমাদের স্বাভাবিক যে চাহিদা, সেই চাহিদার চাইতে গত সপ্তাহের পাঁচদিন কার্যত দু-তিন গুণ জ্বালানি সরবরাহ করেও আমরা মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেক ক্ষেত্রে কমাতে পারিনি কিংবা কমেনি।’

এই অস্বাভাবিক চাহিদা কোনো যৌক্তিক কারণে ছিল না মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে, প্যানিক বায়িং থেকে হয়তোবা আমাদের যেভাবেই বলেন, দেশপ্রেমের ঘাটতির জায়গা থেকে এটা ঘটতে পারে। আমরা এটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখিনি, আমরা এটি স্বাভাবিকভাবে দেখেছি এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটি সমাধানের চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, এখানে আমরা স্বাভাবিক যে চাহিদা মানুষের সেই চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে—কারণ আগের সপ্তাহে যখন পাঁচদিন দু-তিন গুণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এই জ্বালানি কারও না কারও কাছে রয়ে গেছে—সেটি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক যে চাহিদা ছিল তা থেকে আমরা কিছু রেশনিক করার চেষ্টা করেছি। এরপরেও দেখলাম যে কিছু জায়গায় সংকট বেড়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আজ আমরা নোটিশ করেছি যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং সে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা—আগে আমরা রেশনিং করে ২ লিটার তাদের জন্য বরাদ্দ করেছিলাম—এটি নিয়ে তাদের জন্য খুব বেশি রাইড করা সম্ভব হয় না। এই সময়ে তাদের জন্য এটি একটি সংকট। যে কারণে আমরা আজ রাইড শেয়ার যারা করে উবার, পাঠাও—একরকম চালকদের ৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এটি দ্বিগুণের চাইতেও বেশি করেছি। আমি মনে করি এটা একটি স্বস্তির কারণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব চেয়ে বড় ব্যাপার দেখেন, পেট্রোল পাম্পের লাইনটা একটা হচ্ছে মোটরসাইকেলের, আরেকটি হচ্ছে প্রাইভেট ভেহিকেলের। এসব ট্রান্সপোর্টের মূল চাহিদা কী? অকটেন এবং পেট্রোল। অকটেন এবং পেট্রোলে তো কার্যরত কোনো সংকট নেই। আপনারা জানেন পেট্রোল কার্যত পুরোটাই আমরা বাংলাদেশেই নিজেরা উৎপাদন করি এবং পরিশোধন করি। অকটেনেরও সিংহভাগ আমরা কিন্তু আমাদের দেশ থেকেই পাই। এটি পরিশোধিত আকারে পাই। কিছু আমদানি করতে হয়।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মূলত জ্বালানি আমদানিনির্ভর ডিজেলের জন্য, ফার্নেস অয়েলের জন্য। কিন্তু আপনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখবেন যে লম্বা লাইনটা মূলত মোটরবাইক এবং প্রাইভেট ভেহিকেলের। অর্থাৎ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই উৎকণ্ঠা থেকে, উদ্বেগ থেকে এই সংকটটা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করছি উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার জায়গাটা কী? জ্বালানি পাওয়া যাবে না। আর একটি আশঙ্কা কী? জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। কিন্তু যখন একটানা এতদিন পরেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি—হয়তোবা জ্বালানি পেতে আপনাকে একটু লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে—এবং এখনো পর্যন্ত যখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পায়নি, তখন আমার ধারণা এই উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কমে যাবে।

তিনি বলেন, গতকাল দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল গড়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের জ্বালানি নিয়ে। একটি এসেছে। আরেকটি গতকাল এসে পৌঁছানোর কথা ছিল সেটি বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে। আজ দুপুর নাগাদ আমরা মনে করছি এটার জ্বালানি খালাস করতে পারবো। ১২ তারিখে কিন্তু আরেকটি জাহাজ আসছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেহেতু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমরা অতীতেও বলেছিলাম—আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে বলছি—জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক বা অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই আল্লাহর রহমতে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.