দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং পরবর্তী ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অস্থিরতা ও ‘মব কালচার’ কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেশ কিছু সাহসী ও জনমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে উঠে এসেছে নতুন বাংলাদেশের এক আশাব্যঞ্জক চিত্র।
জনপ্রিয় জনমুখী উদ্যোগ
১) ফ্যামিলি কার্ড ও রেশন: বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
২) হয়রানিমূলক মামলা পুনর্বিবেচনা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ঢালাও হত্যা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এতে বিচারহীনতার ভীতি দূর হচ্ছে।
৩) অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার: স্থবির হয়ে পড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব সচল ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে বিনিয়োগে ফিরছে আস্থা।
৪) পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কার: ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে অদক্ষতা দূর করতে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের অদক্ষতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই অচলাবস্থা কাটাতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ধাপেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ পদে রদবদল শুরু করেছে।
৫) সাংবাদিকদের কার্ড পুনর্বহাল: বিগত সরকার কর্তৃক বাতিল হওয়া ১৬৪ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
তারেক রহমানের ‘প্রটোকলবিহীন’ জীবন
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কিছু সিদ্ধান্ত নাগরিক সমাজে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত সরকারি গাড়ির বদলে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন, যার জ্বালানি ও চালকের খরচ নিজেই বহন করছেন।
প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয়ে নিজ দফতরে উপস্থিত হয়ে দাফতরিক কাজ শুরু করছেন।
এছাড়া সড়কে চলাচলের সময় ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নিষিদ্ধ করা, নিরাপত্তা বহরে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করা, সংসদ সদস্যদের জন্য ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ি ও প্লট সুবিধা বর্জনের ঘোষণা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন—এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বাস্তবতায় নতুন এবং চমকপ্রদ পদক্ষেপ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।