মুজিব গণতন্ত্র হত্যা করেছেন আর জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন, মুজিব, জিয়া এক জিনিস নয়: দুদু
মুজিব আর জিয়া এক জিনিস নয় মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, মুজিব গণতন্ত্র হত্যা করেছেন আর জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।
জিয়াবাদ ও মুজিববাদ আর চাই না- জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি বলব, ভাই আপনাকে কে দেখতে বলেছে? কে ঠিকাদারি দিয়েছে আপনাকে? চোখ নাই, মাথা নাই, বুদ্ধি নাই, বিবেচনা নাই! মুজিব আর জিয়া এক জিনিস নয়। মুজিব গণতন্ত্র হত্যা করেছেন আর জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। মুজিব মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে গেছেন, আর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন। মুজিব বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ এনেছেন, আর শহীদ জিয়া বাংলাদেশ থেকে দুর্ভিক্ষ দূর করেছেন। শহীদ জিয়া আর মুজিবের মধ্যে যে পার্থক্য বুঝে না, সে নাকি আবার রাজনৈতিক দল গঠন করবে! এটা দুঃখজনক।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আরাফাত রহমান কোকো শুধু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদরের পুত্র নন, তিনি একজন বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠকও ছিলেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে না থাকলেও, রাজনৈতিক পরিবারের একজন আদরের সন্তান ছিলেন। এই ধরনের একটা পরিবারের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে এ কথা বলা যায়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে এটা প্রমাণিত হয়েছে, বেগম জিয়া এবং শহীদ জিয়া ও তারেক রহমানের যে পরিবার, সে পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য যে উদ্যোগ ছিল তারই অংশ হিসেবে আরাফাত রহমান কোকোকে খুন করা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাকে অবহেলার সঙ্গে, নির্যাতন এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিরোধী মতকে দমনের জন্য শেখ মুজিব রক্ষী বাহিনী বানিয়েছেন। তিনি ৪০-৪৫ হাজার মানুষকে খুন, গুম, নিখোঁজ করেছেন। সিরাজ সিকদারের মতো ব্যক্তিকে শেখ মুজিব শুধু হত্যাই করেননি, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সাথে বলেছেন- কোথায় আজ সিরাজ সিকদার।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বলেন, শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা দম্ভ করে বলতেন, মুজিব কন্যা কখনো পালায় না। এখন কিভাবে পালালেন সেটা সবাই দেখেছে। বিশ্বে এ রকম নজির নেই। তার বোন শেখ রেহানা এবং তার তিন সন্তান সবাই চোর।
দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে নানান কথা হচ্ছে। গণতন্ত্র ফিরে না এলে অর্থাৎ ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার পরে জাতি গণতন্ত্রে ফিরবে, এটা তো বাস্তবসম্মত। গণতন্ত্রে ফেরার জন্য একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। নির্বাচনের মধ্যে জাতিকে যদি না নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্র ফিরে আসার দ্বিতীয় কোনও পথ আছে বলে মনে হয় না। যারা গণতন্ত্রে ফিরতে চান, তারা গণতন্ত্রের কথা বলছেন। আর যারা নির্বাচনকে বিরোধিতা করতে চান, তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা মুজিবকে বিরোধিতা করেন, কিন্তু জিয়াকে বিরোধিতা করলে আপনাকে মুজিবের পক্ষের লোক হিসেবে অনেকে ধারণা করবে। বিভ্রান্ত সৃষ্টি করবেন না। বিভ্রান্ত সৃষ্টি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে দ্বিধান্বিত করবে। এটা ঠিক হবে না। সেজন্য আমার মনে হয়, বিএনপিকে সমালোচনা করতে গিয়ে আপনি যে পরোক্ষভাবে গণতন্ত্রের সমালোচনা করছেন, ফ্যাসিবাদের পক্ষে চলে যাচ্ছেন, এটা কি আপনি খেয়াল করেছেন? আগামী দিন হচ্ছে জাতীয়তাবাদীদের দিন। আগামী দিন হচ্ছে- যারা শহীদ জিয়ার কর্মী, বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের কর্মী তাদের দিন।
দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ধানের শীষ ঐক্যমঞ্চ (ঘাটাইল)।