পুতিনের ‘প্রেমিকার’ বিরুদ্ধে কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র?

0

ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া এবং ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ যায়নি পুতিনের দুই কন্যাও। তবে পুতিনের ‘প্রেমিকা’ আলিনা কাবায়েভা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরেই রয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিনার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাগুলো শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। কারণ এই পদক্ষেপকে ‘পুতিনের পক্ষে এতটাই ব্যক্তিগত আঘাত বলে মনে করা হয়েছিল যে এই বিষয়টি রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে’ বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, তিনি আলিনা এখনো সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়ে গেছেন বলে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

৬৯ বছর বয়সী পুতিন অবশ্য কখনোই আলিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ৩৮ বছর বয়সী আলিয়া পুতিনের অন্তত তিনটি সন্তানের মা। দ্য গার্ডিয়ানের মতো বেশকিছু গণমাধ্যমও তাকে পুতিনের প্রেমিকা হিসেবেই দাবি করে থাকে। এমনকি কয়েকটি রাশিয়ার গণমাধ্যমও আলিনাকে দেশটির ‘সিক্রেট ফার্স্ট লেডি’ বলে অভিহিত করে।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তদন্তে জানা গেছে, আলিনা পুতিনের প্রভাব এবং ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে লাভবান হয়েছেন।  সেই সম্পদের কিছু অংশ বিদেশে লুকিয়ে রেখেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দেহ করেছেন।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পরপরই, ফেব্রুয়ারি মাসে  পুতিনের ওপর বাইডেন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সাতটি দেশ পুতিনের প্রাপ্তবয়স্ক দুই মেয়ে মারিয়া পুতিনা এবং ক্যাটরিনা তিকহোনোভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞার খড়গ অবশ্য পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের কানাঘুষার পরও স্বর্ণপদক বিজয়ী জিমন্যাস্ট আলিনার ওপর পড়েনি।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো পুতিনের সঙ্গে আলিনার নাম জড়ায়। মিডিয়া টাইকুন এবং সাবেক কেজিবি স্পাই আলেকজান্ডার লেবেদেভের মস্কো থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র  এ দাবি করেছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন তার স্ত্রী লিউডমিলাকে ডির্ভোস দেন।

এরপর আলিনাকে ‘রাশিয়ার ফার্স্ট লেডি’ বলা শুরু হয়। অবশ্য আলিনা পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেন। তবে থেমে থাকেনি তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন। গুজব রটে তারা গোপনে বাগদান করেছিলেন এবং তারপর বিয়ে করেন। বিয়েতে পারিবারিক অনুষ্ঠানও হয়েছিল।

কাবায়েভা একজন পার্লামেন্টের ক্রেমলিনপন্থি সদস্য ছিলেন এবং ২০১৪ সালে ন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপ চালানোর জন্য বার্ষিক ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেতনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে মস্কোতে ডিভাইন গ্রেস রিদমিক জিমন্যাস্টিকস টুর্নামেন্টে তিনি শেষবার ক্যামেরা বন্দি হয়েছিলেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com