ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখবো আমার ভোট শেষ হয়ে গেছে এমন নির্বাচন আর দেখতে চাই না।

0

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিনক্ষণ দরজায় কড়া নাড়ছে। আগামী ৩০শে জানুয়ারি ভোটগ্রহণ। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রার্থীদের প্রস্তুতি। ১০ই জানুয়ারি শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ভোট নিয়ে উত্তর-দক্ষিণ দুই সিটিতেই চলছে মিশ্র আলোচনা। প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিলেও ভোটাররা এ নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন। অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে করে ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না অনেকে। কারো কারো অভিযোগ, কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না।

নির্বাচনে সব প্রার্থী শেষ অবধি থাকেন না। শুরু থেকে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তা শেষ হয়ে যায় নির্বাচনের আগের দিনই।  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ড ঘুরে এসব অভিযোগই পাওয়া যায়।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডা, মধ্যবাড্ডা, দক্ষিণ বাড্ডা, গুদারাঘাট, উত্তর বাড্ডা (পশ্চিম পাশ), গোপিপাাড়া, শাহজাদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি খন্ডিত এলাকা নিয়ে গঠিত উত্তর সিটির এই ওয়ার্ডটি। বর্তমান কাউন্সিলর মাসুম গণি এবারও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এজিএম শামসুল হক। ২১নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৬০ হাজার।

ভোটাররা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে ভোট হয়েছে তাতে সিটি নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট না দিতে পারার যন্ত্রণাও কুরে কুরে খাচ্ছে কাউকে কাউকে। মেরুল বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা তারিফ আল হাসান। বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আগে একটা সময় খুব ভাবতাম। সিটি নির্বাচন এলেই এলাকার খোঁজখবর নিতাম। এখন এসব নিউজ প্রচার হলেও চ্যানেল পাল্টে অন্যকিছু দেখি। মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে না। সেখানে এসবের খোঁজ নিয়ে লাভ কি? আর আমাদের ভোটে তো কিছু আসে যায় না।

আগে থেকে ঠিকঠাক থাকলে আমাদের আর দরকার কি? ঝিলপাড়ের ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একটা আশা থাকে। এখন সেটা হয় না। তাই আমার কোনো বক্তব্য নেই। নির্বাচন কমিশন যাকে বিজয়ী ঘোষণা করবে তিনিই আমাদের মেয়র কাউন্সিলর। দক্ষিণ বাড্ডার বাসিন্দা সুলতানা ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে তাহলে বুঝা যাবে। আমরা একটা ভালো নির্বাচন দেখতে চাই। ২১ নং ওয়ার্ডের ভোট নিয়ে আলোচনা চলছিল উত্তর বাড্ডার একটি চায়ের দোকানেও। শাহরিয়ার নামের একজন বললেন, ভোট তো সবাই দিতে আগ্রহী। একজন সৎ যোগ্য প্রার্থী থাকলে সবারই তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে চায়। কিন্তু এখন যে অবস্থা! ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়া লাগে না। আগের রাতেই ভোট শেষ। এসব মনে আসলে আর ভোট নিয়ে কথা বলতে মন চায় না। সোহান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কোনো হট্টগোল দেখতে চাই না। আমাদের এলাকায় যে যোগ্য তাকেই ভোট দিয়ে কাউন্সিলর করবো। কিন্তু  তার আগে আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখবো আমার ভোট শেষ হয়ে গেছে এমন নির্বাচন আর দেখতে চাই না।

ভোট নিয়ে ভোটারদের অভিযোগ থাকলেও বেশ আত্মবিশ্বাসী কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা জানান জনগণ ভোট দিলে এলাকার সেবা করার সুযোগ পাবেন। সার্বিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ২১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাসুম গণি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ভালো চলছে প্রস্তুতি। চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রচারণা শুরুর আগে কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে এই প্রার্থী বলেন, এখনও তো প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রতীক পাওয়ার পর হয়তো বোঝা যাবে।

অন্যদিকে একই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী এজিএম শামসুল হক। তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ১০ জানুয়ারির পর প্রচারণায় নামবো। ভোট ও ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন এমন আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন এজিএম শামসুল হক। বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এই এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ লাইন, গ্যাস সব কিছুর উন্নয়ন আমাদের দলের মাধ্যমেই হয়েছে। সে হিসেব করলে জনগণ আমাদের সঙ্গেই থাকবেন এবং আমাকেই ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন। নির্বাচনের আগে তার কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে অভিযোগ করেন তিনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com