ভ্যাকসিন বিলম্বিত, যে প্রশ্নের জবাব নেই

0

ভ্যাকসিন কেন নাগালের বাইরে চলে গেল এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও এই প্রশ্নের কোন জবাব নেই কারো কাছে। এশিয়ায় এমন কোন দেশ নেই যারা একাধিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেনি। এমনকি চীনও, যারা নিজেরাই ভ্যাকসিন তৈরি করে। চীন অ্যাস্ট্রানেজেকার সঙ্গে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ একটিমাত্র সূত্রের ওপর ভরসা করে বসে ছিল বা আছে। তাও মাত্র তিন কোটি ডোজের জন্য।সমালোচকরা বলছেন, সরাসরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করলে হয়তো এখন যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তা হতো না। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট নিজ দেশে টিকা সরবরাহ করার পর রপ্তানি করবে এমনটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বরাবরের মতোই শনিবার বলেছেন, এ মাসেই ভারত থেকে ভ্যাকসিন আসবে। তিনি অবশ্য বলেননি কতো ডোজ আসবে। আগেই বলা হয়েছে ৫০ লাখ ডোজ আসবে প্রথম কিস্তিতে। এ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। গেল সপ্তাহের শেষ দিকে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছিলেন, ভ্যাকসিন আসতে বিলম্ব হতে পারে। চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল ঢাকায় হবে বলে প্রায় চূড়ান্ত ছিল। আইসিডিডিআর’বি প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু তৃতীয় একটি পক্ষের আপত্তিতে তা আটকে যায়। ভ্যাকসিন লড়াইয়ে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সম্পন্ন করে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেয়ে  গেছে। দেশটি নোভাভ্যাক্স ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভি থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডোজ পাওয়ার প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে। কিন্তু সময়তো আর বসে নেই। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অন্য দেশ এগিয়ে গেছে। সিঙ্গাপুর হচ্ছে এশিয়ার প্রথম দেশ যারা কিনা ফাইজারের ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু করে দিয়েছে। তারা মর্ডানা ও সিনোভ্যাকের সঙ্গেও চুক্তি করেছে। অস্ট্রেলিয়া চুক্তি করেছে ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও  নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে। ৫৩ মিলিয়ন ডোজ পাচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছ থেকে। নিউজিল্যান্ড নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে ১৭ মিলিয়ন ডোজের চুক্তি করেছে অনেক আগেই। জাপান ১২০ মিলিয়ন ডোজের চুক্তি করেছে ফাইজারের সঙ্গে। দেশটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছ থেকে ১২০ মিলিয়ন ডোজ, নোভাভ্যাক্স থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডোজ টিকা নেয়ার চুক্তি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া চারটি সূত্র থেকে ভ্যাকসিন পাচ্ছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা  ও ফাইজারের সঙ্গে ২০ মিলিয়ন ডোজের চুক্তি সই করেছে। মর্ডানা থেকে ৪০ মিলিয়ন এবং ৯ মিলিয়ন সংগ্রহ করবে জনসন এ্যান্ড জনসন থেকে।

ভারতীয় কোম্পানী সিরাম ইনস্টিটিউট অ্যাস্ট্রাজেনেকার ওষুধ প্রস্তুত করছে। ১৬ই জানুয়ারি থেকে টিকা দেয়া শুরু হবে। এছাড়া তাদের আরেকটি কোম্পানী ভারত বায়োটেক টিকার দৌঁড়ে সামনে আছে। তাইওয়ান চুক্তি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে। ২০ মিলিয়ন ডোজ টিকা সহসাই পৌঁছে যাবে দেশটিতে। বসে নেই থাইল্যান্ড। তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে ৬৩ মিলিয়ন ডোজের চুক্তি করেছে। মালয়েশিয়া ফাইজার থেকে ১৩ মিলিয়ন ডোজ আমদানির চুক্তি করেছে। এছাড়া মর্ডানা ও সিনোভ্যাকের সঙ্গে চুক্তি সই করে রেখেছে। দেশটি বলেছে ৮৩ ভাগ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিলিপাইন অ্যাস্ট্রাজেনেকা থেকে পাচ্ছে ২৬ মিলিয়ন ডোজ। এছাড়া আরো সাতটি কোম্পানীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভিয়েতনাম অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পেতে চুক্তি করেছে শুরুতেই। তারা প্রাথমিকভাবে ৩০ মিলিয়ন টিকা পাবে। ফাইজার এমনকি চীন-রাশিয়ার সঙ্গেও সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com