করোনাকালে ঘর ভেঙেছে যেসব তারকার

0

সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলায় নিত্যই ডুবে থাকে শোবিজ। করোনার বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চলতি বছর শোবিজের অনেক জনপ্রিয় তারকার সুখের সংসার ভেঙেছে। আবার অনেকেরই বিচ্ছেদ চূড়ান্ত না হলেও ঝুলে আছে আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। অনেকেই আবার স্বামী- সংসার কিংবা বউ ছেড়ে আলাদা থাকছেন।

শবনম ফারিয়া: ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেতা শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। অনেক দিন আলাদা থাকছেন দুজন। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হলেন তারা। গত ২৭ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।

পরীমনি: ‘জানেন, আমরা তিন টাকায় বিয়ে করেছি! কিউট না? আমাদের বিয়ের দেনমোহর তিন টাকা।’ এভাবেই হঠাৎ বিয়ের খবর জানিয়েছিলেন ঢালিউডের আলোচিকত নায়িকা পরীমনি। কিন্তু সেই বিয়েটা পাঁচমাসও টিকলো না । চলতি বছরের ৯ মার্চ দিবাগত রাতে অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজী ডেকে বিয়ে করেন  পরীমনি। বর পরিচালক কামরুজ্জামান রনি। সে সময় পরীমনি গণমাধ্যমকে বলেন,‘অনেক হিসাব-নিকেশ করে তো জীবনের পরিকল্পনা করাই যায়। কিন্তু জীবন চলে তার নিজস্ব পথে। জন্ম-মৃত্যু, বিয়ে সবই আল্লাহর হাতে এটা আমি মানি। আমার কাছে মানুষের বিশ্বাস ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।এটার ওপর নির্ভর করে মানুষ জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই সংসার এগুতে পারেনি। চলতি বছরের আগস্ট মানে খবর আসে পরীমনি আর রনির বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তবে সেসব নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি পরীমনি। তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বেশ কিছু সিনেমার শুটিং নিয়ে।

শাবনূর: স্বামী অনিককে ডির্ভোস দিয়ে ৮ বছরের সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন চিত্র নায়িকা শাবনূর। ২০০৮ সালে ‘বধূ তুমি কার’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে অনিক নামে এক নবাগত অভিনেতার সঙ্গে পরিচয় হয় ঢাকাই সিনেমার নন্দিত অভিনেত্রী শাবনূরের। পরিচয় সূত্রে প্রেম। ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর অনিক মাহমুদ হৃদয়ের সঙ্গে আংটি বদল করেন শাবনূর। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন। সেই সাংসারে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আইজান নিহান নামে এক ছেলের জন্ম হয়। কিন্তু সেই সংসার ভেঙে গেল আট বছরের মাথায়। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি বনিবনা না হওয়ায় অনিককে তালাক দেন শাবনূর।

অপূর্ব: দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিলো জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও তার স্ত্রী নাজিয়া হাসান অদিতির। ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। শোবিজে তাদের আদর্শ দম্পতি হিসেবে দেখা হতো। ১৭ মে খবর পাওয়া যায় তাদের ডির্ভোস হয়ে গেছে। হঠাৎ পাওয়া সেই খবরে চমকে গিয়েছিলেন সবাই। ডির্ভোসের ব্যাপারটি নিজেরাই জানিয়েছেন অপূর্ব ও অদিতি। ১৭ মে রাতে এক স্ট্যাটাসে অপূর্ব ডিভোর্সের কথা স্বীকার করে তার জন্য এবং সাবেক স্ত্রী অদিতি এবং তাদের সন্তানের জন্য দোয়া চান।
তবে অদিতি ছিলেন অপূর্বর দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে অপূর্ব সংসার পেতেছিলেন অভিনেত্রী প্রভার সঙ্গে।  

মুনমুন: ঢাকাই সিনেমার সমালোচিত চিত্রনায়িকা মুনমুনের দ্বিতীয় সংসার ভেঙে গেছে। তার দ্বিতীয় স্বামী মীর মোশাররফকে তিনি চলতি বছরের আগস্টে ডির্ভোস দিয়েছেন। ১০ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিয়ের পর মিডিয়া পাড়ার নানা অনুষ্ঠানে স্বামীকে নিয়ে আসতেন মুনমুন। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সিনেমার মানুষদের সঙ্গেও। দুটি সন্তান রয়েছে তাদের। বোঝা যেত সংসারের প্রতি বেশ মনোযোগী চিত্রনায়িকা মুনমুন। তাদের সেই সংসারও টিকলো না। স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে তালাক দেন এ নায়িকা। আগস্ট মাসের ২ তারিখে তাদের তালাক কার্যকর হয়। এর আগে ২০০৩ সালে সিলেটের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। ২০০৬ সালে সেই সংসার ভেঙে যায় মুনমুনের।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com