দেশে আইনের শাসন না থাকার কারণেই গুম-খুন ও হামলার মতো ঘটনা ঘটছে: মির্জা ফখরুল

0

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ, ঘোরাঘাটের ইউএনও’র ওপরে হামলা এবং মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত দায়ীদের বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে মসজিদের বিস্ফোরণে যারা নিহত হয়েছেন তারা বেশিরভাগই সচ্ছল পরিবারের নয় উল্লেখ করে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি করেছে দলটি।

সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আসন্ন উপ-নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। এটা নতুন সিদ্ধান্ত নয়। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা দুটো উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়েও পরে ক্যাম্পেইনে যাইনি। সুতরাং আমরা আগের সিদ্ধান্তেই আছি। আমরা উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করবো। সে অনুযায়ী ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৬, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে আগামী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফরম বিক্রি ও জমা নেয়া হবে। ১২ তারিখে তাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আসার পর থেকে হত্যা, গুম বিচারববহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে দাবি করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে। তখন সেগুলো সবই ছিল রাজনৈতিক। এসব নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। জেনেভায় রিপোর্ট দিয়েছি। কিন্তু সেভাবে সামনে আসেনি।

মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, কক্সবাজারে এ ধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে। আজকে পুলিশের কিছু কিছু কর্মকর্তার যে সম্পদের হিসাব বের হচ্ছে তাতে কী মনে হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে পুলিশের এই এজেন্সিটা আজকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কারণ সরকার গত নির্বাচন ও আগের নির্বাচনগুলোতে সরকার তাদেরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি মহিলা হোক আর পুরুষ হোক তিনি সরকারের একজন কর্মকর্তা। তাকে তার বাড়িতে রাতে হামলা করে হত্যা চেষ্টা করা হলো। আর দেখা গেলো র‌্যাব বললো চুরির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে। তাদের কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না বলেই দ্রুত একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলে দেয় এটা চুরির ঘটনা। এটা আসলে পুরো জিনিসটাকেই ডাইভার্ট করে দেয়া। আমরা দেখলাম, সরকারি দলের লোককে গ্রেফতার করেও ছেড়ে দেয়া হলো। আসলে আজকে দেশে কোনো সরকার নেই। যে সরকার আছে তাদের দলীয়করণ করা, নিজেদের বিত্ত সম্পদ তৈরি করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই।

তদন্ত এখন আর নিরপেক্ষ হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা চাই নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা এই তদন্তগুলো হওয়া উচিত। যাতে করে সঠিক চিত্র বের হয়ে আসে। প্রকৃতদায়ীকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়।

সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশ থেকে করোনা চলে গেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা যেসব হিসাব দেয় মানুষ তা এখন আর বিশ্বাস করেন না। সরকার নির্দেশ দিয়ে করোনার টেস্ট বন্ধ করে দিয়েছে। আমার এক কাজিনের কোভিড-১৯ হয়েছিল। অনেক দিন হয়ে গেছে। এখন পরীক্ষা করবে। কিন্তু হাসপাতালে গেছে বলে, এখন টেস্ট বন্ধ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোন জায়গায় চলে গেছে? স্বাস্থ্য অধিদফতর আগে ডেইলি প্রেস ব্রিফিং করতো সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ ওটা কেউ আর বিশ্বাস করে না। আর কত মিথ্যা কথা বলবে?

দেশের সরকার ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনটা কী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ও রাষ্ট্র যদি মানুষের জীবন জীবিকার নিরাপত্তা না দিতে পারে। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলো নিয়ে সবার এখন কথা বলা দরকার। ঘুরে দাড়ানো দরকার যে আমরা প্রকৃতপক্ষে একটা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র চাই। প্রকৃত অর্থে একটা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার চাই। ইনক্লুসিভ গভর্মেন্ট চাই।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি মানুষের এখন এই সরকারের কাছে জবাব চাওয়া উচিত। সরকারকে বলা উচিত এনাফ ইজ এনাফ, দয়া করে এখন দেশের মানুষকে ক্ষমা দাও। চলে যাও, সরে যাও এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করো। এছাড়া এ দেশকে রক্ষা করবার আর কোনো উপায় নেই।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com