আওয়ামী লীগ আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে ভিন্নমত দমনে গুম-খুন করা হতো: চিফ প্রসিকিউটর

0

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে ভিন্নমত দমনে গুম-খুন করা হতো বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এসব কর্মকাণ্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সাক্ষ্যে উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির। তার জবানবন্দিতে ২০১০ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে অপহরণ করে নৃশংসভাবে হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা উঠে আসে।

সাক্ষ্যে সাব্বির বলেন, ২০১০ সালের মে মাসে পাথরঘাটার চরদুয়ানীর বলেশ্বর নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাদের মুখ ও পুরো শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র‌্যাব-৮-এর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

তিনি আরও জানান, একই কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশন’-এ ব্যবহৃত ট্রলারের মাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।

গুমের এই মামলায় এরই মধ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তা এবং র‌্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলাটিতে এখন তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাবে।

গত ১৬ বছরে গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.